ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার।
আজ রোববার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এর ফলে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পরিচালিত ওই প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। এর মধ্য দিয়ে এখন প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারি হলো।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া সুপারিশ তিনি অনুমোদন করেছেন।
শাহবাজ শরিফের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃতভাবে সরে থাকার’ বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।
কারাবন্দী নেতা ইমরানের মুক্তির দাবিতে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে ৪ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চ শুরু করেন। গতকাল শনিবার ছিল লংমার্চের সপ্তম দিন। এখনো লংমার্চ খাইবার পাখতুন খাওয়া প্রদেশেই অবস্থান করছে।
ইমরানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁর দল পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গতকাল প্রেসিডেন্ট ভবনে আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেন। বৈঠকের পর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা জোরালো হয়।
এদিকে পিটিআই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নরের শাসন পাখতুনখাওয়ায় কোনো সমস্যার সমাধান আনবে না।
ধ্রুব রাঠি
গতকাল শনিবার আটকের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাদাপোশাকের ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করেছিলেন। পরে তাকে ছেড়ে দেয় গুরুগ্রাম পুলিশ।
ধ্রুব রাঠি বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে গেলে হয়তো আমাকে আটক করা হতো। কিন্তু তারা আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় অপহরণ করেছেন। পরে জানতে পেরেছি, বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। একজন অপরাধীর মতো আমাকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
গতকাল শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার মানুষকে আটক করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে ধ্রুব রাঠিও ছিলেন। আজ রোববার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ধ্রুব রাঠি কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর সমর্থক এবং ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
নির্বাচনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করে পুলিশ।
গতকাল শনিবার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় নিজের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীরা যাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য ওই দিন ভারতের রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল পুলিশ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধ্রুব রাঠি যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আবারও আটকসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
বিমানের ভেতর থেকে আটকের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। এ সময় তাদের পৃথক স্থানে রাখা, জোর করে মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া এবং আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সৌরভ দাস। তার আরও সন্দেহ, পুলিশের হেফাজতে তাদের ফোন হ্যাক বা ক্লোন করা হয়ে থাকতে পারে, এমনকি ফোনে প্রমাণও সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে।
আজ রোববার দুপুর ২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন সৌরভ দাস। তার দাবি, আটকের কোনো লিখিত কারণ বা নথি তাদের দেওয়া হয়নি। ফোন জব্দের রসিদ চাইলে পুলিশ তা দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।
সৌরভ দাস বলেন, ‘পুরো দেশ জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা শুধু সরকারের সামনে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চান। কিন্তু এখন রাষ্ট্র তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছে।’
দিল্লিতে প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে দাবি করে সৌরভ বলেন, পুরো শহরকে দুর্গের মতো করে রাখা হয়েছে। ৫০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া, দোকানপাট ও সড়কে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সৌরভের ভাষ্য, তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে জনসমক্ষে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে সরকার।
বিমান থেকে আটক করার অভিযোগ
সৌরভ দাসের অভিযোগ, তারা দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ বিমানের সিঁড়িতে উঠে তাদের আটক করে। তার ভাষায়, তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন তাদের অপহরণ করা হচ্ছে।
সৌরভ বলেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের আটক করা হতে পারে। কিন্তু এভাবে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, তা ভাবিনি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি পলাতক ব্যবসায়ী নীরব মোদি ও বিজয় মালিয়ার নাম উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, একই সরকার তাদের বিমানে করে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে, অথচ আন্দোলনকারী নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে।
তিনজনকে রাখা হয় তিন স্থানে
আটকের পর তাদের একসঙ্গে না রেখে পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন সৌরভ। তিনি জানান, তাকে আর কে পুরমে রাখা হয়েছিল। আশুতোষ রাঙ্কাকে নেওয়া হয়েছিল বল্লভগড়ে। আর অভিজিৎ দিপকেকে কোথায় রাখা হয়েছিল, তা তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।
সৌরভের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে জোর করে মুঠোফোন নেওয়া হয়। তারা ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানাননি; তবে ফোন জব্দের লিখিত রসিদ বা নথি চেয়েছিলেন। পুলিশ তা দিতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের আটকের কোনো কাগজপত্র দেয়নি, আটকের কারণও জানায়নি। আমাদের ফোন জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আমরা ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু জব্দের রসিদ চাইলেও তারা তা দেয়নি।’
আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি
আটক অবস্থায় আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সৌরভের। তার দাবি, আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ জানায়, আটক অবস্থায় তাদের কোনো অধিকার নেই।
সৌরভ বলেন, ‘আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার আইনি অধিকার আমাদের আছে। কিন্তু পুলিশ বলেছে, আটক থাকলে আমাদের কোনো অধিকার নেই। আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে অন্যদের সঙ্গে কী করা হচ্ছে, তা কল্পনা করুন।’
ফোন হ্যাক বা ক্লোন করার সন্দেহ
পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের মুঠোফোনে কী করা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌরভ দাস। তার আশঙ্কা, পুলিশ তাদের ফোন হ্যাক বা ক্লোন করে থাকতে পারে। এমনকি ফোনে কোনো প্রমাণ সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
সৌরভের ভাষ্য, ‘আমরা সন্দেহ করছি, তারা আমাদের ফোন হ্যাক করেছে অথবা ক্লোন করেছে। হয়তো প্রমাণও বসিয়ে দিয়েছে। আমাদের এই সন্দেহ অমূলক নয়। কারণ, তারা কোনো নথি দেয়নি এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আমাদের ফোন তাদের কাছে ছিল।’
তবে ফোন হ্যাক বা ক্লোন করা কিংবা ফোনে প্রমাণ সংযোজনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়নি।
নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে, অভিযোগ
সৌরভ দাসের অভিযোগ, দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত করা হয়েছে। তার দাবি, বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চাইলেও তাদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির এই আন্দোলন চলছে। ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
নরেন্দ্র মোদিকে চেন্নাই বিমানবন্দরে স্বাগত জানাচ্ছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চেন্নাই বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। রোববার তামিলনাড়ু তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের (টিএনডিআইপিআর) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই।
চেন্নাই সফরে মোদির বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। তিনি পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে পুনামাল্লি বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত চেন্নাই মেট্রোতে ভ্রমণ করবেন এবং পরে একই পথে ফিরে আসবেন। এ ছাড়া শহরের জালাকান্তেশ্বর মন্দিরে পূজা দেবেন তিনি।
এরপর আইআইটি মাদ্রাজের ব্রেন সেন্টার পরিদর্শন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সফরে ১৩ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন ও হস্তান্তর করবেন তিনি। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যও দেবেন।
এ ছাড়া চেন্নাইয়ের জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মোদি। সেখানে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তথ্যসূত্র: এএনআই
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ তিন শীর্ষ নেতাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, আগামী এক বছর কোনো ধরনের ‘শান্তি ভঙ্গ করবেন না’, এমন মুচলেকায় রোববার সকালে আদালত তাদের মুক্তির আদেশ দেন।
গতকাল শনিবার মুম্বাই থেকে আকাশপথে দিল্লি এসে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারাকে আটক করে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।
আজ রোববার সকালে তাদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট নির্বাহী হাকিম আদালতে হাজির করা হলে এই মুক্তির আদেশ আসে।
এর আগে, শনিবার গভীর রাতে মোদী সরকারের কড়া সমালোচক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সিজেপির শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে আসা রাঠীকেও আটক করেছিল পুলিশ। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী ও রাজনীতিবিদসহ তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ।
আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পাওয়ার পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপি নেতারা।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গঠিত তরুণদের সংগঠন সিজেপি জানায়, দেশজুড়ে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়া এবং কারচুপির ‘প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত’ তাদের লড়াই চলবে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ রুখতে মোদী সরকার রাজধানীজুড়ে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তুলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে রাতারাতি আলোচনায় এসেছিল সিজেপি ও এর নেতা অভিজিৎ দীপকে।
এদিকে, শনিবার পুলিশি বিধিনিষেধের দোহাই দিয়ে দিল্লির পুরো মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় দিল্লি সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদনের এক বিশেষ শুনানি হতে যাচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিক্ষোভের কারণে কোনো অবস্থাতেই মেট্রো চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। আদালতের সেই সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করায় এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ রোববার সকাল থেকে অবশ্য দিল্লিতে মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, তবে সব স্টেশনের প্রবেশপথে ব্যাপক পুলিশি পাহারা ও আটকদের তোলার জন্য বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিজেপির এই বিক্ষোভের পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উসকানি রয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।
বিজেপি প্রধান নিতিন নবীন অভিযোগ করে বলেছেন, “বিদেশি শক্তির প্রেসক্রিপশনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিরোধী জোট তরুণদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।”
তবে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, “গণতন্ত্রে প্রত্যেকের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কিন্তু বিশৃঙ্খলা ছড়ানো কারও অধিকার হতে পারে না।”
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জেনারেশন জেড বা জেন-জি সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হতে পারে, তবে তাদের দেশ গড়ার মূল লক্ষ্য থেকে স্থায়ীভাবে দূরে সরানো যাবে না।”
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার নাদিম নাসির সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে এ ঘোষণা দেন। আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো স্থানে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র, হাতে তৈরি বিস্ফোরক, পেরেকযুক্ত বস্তু, ভারী লাঠি, গুলতি, বল–বিয়ারিং, পেট্রলবোমা কিংবা শারীরিক ক্ষতি করতে পারে—এমন কোনো সরঞ্জাম বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহার এবং সমাবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো; যদিও দলটির লংমার্চ এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাইরে আসতে পারেনি। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী গতকালও বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে লংমার্চ ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) এক বৈঠকে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। এসব হুমকি মানুষের জীবন, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ এবং জেলার সার্বিক শান্তি–শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিপুল জনসমাগম, বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খল জমায়েতের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হতে পারে। এ লক্ষ্যে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী লোকজনকে সংগঠিত করছেন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা কমিটি।
পাকিস্তানের আরও কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য এ ধারা কার্যকর করা হয়।
একইভাবে লাহোরেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। সেখানে জনশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকির কথা উল্লেখ করে এ ধারা কার্যকর করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
হুথি হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র রোববার (১১ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।
হুথি হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সকাল পর্যন্ত মোট ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।