• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২০ পিএম

ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসের দুটি এলাকায় রাতভর কারফিউ জারি করেছে পুলিশ।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে এ নির্দেশ কার্যকর হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৮টা থেকে ওই এলাকায় জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভে প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় দাঙ্গা হয়। অন্যদিকে, লে আল এলাকার বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকাগুলোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ কারফিউ কার্যকর থাকবে। এ সময় কেউ ওই দুই এলাকায় প্রবেশ করতে বা অবস্থান করতে পারবেন না।এর আগে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সীমিত পরিসরে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির আহ্বান জানান। দেশটির উত্তরাঞ্চলের লিলসহ কয়েকটি শহরে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে পরবর্তী দুই দিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। ফরাসি রিভিয়েরা অঞ্চলের নিস শহরেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত ৯টা থেকে কারফিউ কার্যকর হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, ব্যাপক সহিংসতা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও কেউ নিহত হননি, যা অলৌকিক ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের কারফিউ জারি করা হবে, তা নিয়ে মেয়রদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



পদত্যাগ গ্রহণ করেননি মাখোঁ



দাঙ্গার ঘটনায় দায়িত্ব নিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তার পদত্যাগ গ্রহণ করেননি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতার আগে পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোথায় ব্যর্থতা ছিল, তা খতিয়ে দেখে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন মাখোঁ। পাশাপাশি দ্রুত নতুন পুলিশি কৌশল চালুর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।



রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল ময়লার পাত্র, সাইকেল ও অন্যান্য জিনিসে আগুন দেয়। বিভিন্ন দোকানেও লুটপাট চালানো হয়। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এসব ঘটনায় পুরো ফ্রান্সে অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন শহরে অন্তত ৩ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা লুটপাটের শিকার হয়েছে।



মার্সেইয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও অন্যান্য জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ ফ্রান্সের একটি বেতারকে বলেন, চলমান পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজেকে দায়ী মনে করেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা। এ ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি ও পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



নুনেজের অভিযোগ, দাঙ্গার পেছনে লুটপাটকারীদের পাশাপাশি কট্টর বামপন্থী কর্মীরাও জড়িত। তার মতে, দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এমন দলগুলোর মোকাবিলায় পুলিশের কৌশল বদলানো প্রয়োজন।



ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট, পুড়েছে পৌর ভবন



কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক শ মানুষের দল বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তারা নগর ভবনসহ সরকারি স্থাপনা ও কার্যালয়েও হামলা চালিয়েছে।



মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরে ১৯ শতকের একটি পৌর ভবনে আগুন লাগে। এতে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে এবং স্থাপনাটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দমকলকর্মীদের ভাঙা কাচসহ অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরাতে দেখা যায়।



প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকার কাছে একটি ভিডিও গেমের দোকানের মালিক উরি জাগুরি জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তিনি দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে নজরদারি ক্যামেরায় দেখেন, লুটপাটকারীরা জোর করে দোকানে ঢুকছে। তিনি পুলিশকে ফোন করলেও তাকে হস্তক্ষেপ না করতে বলা হয়। পুলিশ আসার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত কেউ আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।



সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ বিরোধীদের



কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালির সভাপতি জর্দান বারদেলা দাঙ্গা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ফরাসি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, কিন্তু সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান—দুজনই সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।



বারদেলা ফ্রান্সের জনগণকে শুধু বিক্ষোভের অধিকার প্রয়োগ নয়, ভোটের মাধ্যমেও নিজেদের মত প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া দলটির নেতা মারিন ল্য পেনের সঙ্গে প্রচার চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ল্য পেনকে নির্বাচনের সম্ভাব্য এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



সূত্র: এপি



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অঞ্চলটির ১২টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির পাশাপাশি বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইসরায়েল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। এতে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল ও যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।



সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত দ্রুত আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখতে এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটেছে।অন্যদিকে, গত রোববার কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত নাগরিকদের সরকারি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ও বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।



মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। কাতার এয়ারওয়েজ সোমবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামে তাদের ফ্লাইট আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া জেদ্দায় প্রতিদিনের ফ্লাইটের সংখ্যা সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামানো হবে।



সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।



সূত্র: ইউরোনিউজ

সর্বশেষ সব খবর

রাজা তৃতীয় চার্লস ও অং সান সু চি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪১ পিএম

মিয়ানমারের কারাবন্দী নেত্রী অং সান সু চিকে দুটি বই পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। মিয়ানমারের জান্তা সরকার এ কথা জানিয়েছে।


গতকাল সোমবার সু চির হাতে রাজা চার্লসের উপহারের বই এবং একটি খামবন্ধ চিঠি তুলে দেওয়া হয়। সেই ছবিও প্রকাশ করেছে জান্তা সরকার।


২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী। আটক হন দেশটির নেত্রী সু চিসহ তাঁর দল এনএলডির অনেক রাজনীতিবিদ। তখন থেকে ৮১ বছর বয়সী সু চি বন্দী আছেন।


মিয়ানমারের আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটানোর চেষ্টা করছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। নির্বাচনে জিতে তিনি এখন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন; যদিও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়ে গেছে।


মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। জান্তাপ্রধানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে রেখেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এ কারণে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের কোনো দেশে যেতে পারেন না।


এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফর করে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মিন অং হ্লাইং। সর্বশেষ তিনি মালয়েশিয়া সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা করছেন তিনি।


বিবিসি জানিয়েছে, সু চিকে রাজা চার্লসের উপহার দেওয়া দুটি বইয়ের একটি ‘সয়েল টু টেবিল’। ব্রিটিশ বাগানবিদ ব্রিজেট এলওয়ার্থি ও হেনরিয়েটা কোর্টল্যান্ডের লেখা বইটি ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যটি ‘সয়েল: দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট আওয়ার ফিট’। এটি গত বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি প্রদর্শনীর ক্যাটালগ।


জান্তা সরকারের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিলের পাশে সাদা শার্ট পরা দুই ব্যক্তির মুখোমুখি বসে আছেন সু চি।


দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সু চি। ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সু চি তাঁর জীবনের বড় একটি সময় কারাবন্দী ছিলেন, এখনো আছেন। কারাগারে থাকার সময় তিনি অনেক বই পড়তেন বলে জানা যায়। ধর্ম ও প্রকৃতিবিষয়ক বইয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।


সম্প্রতি সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ করা হয়, কারাগারে সু চির সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সু চির হালনাগাদ ছবি প্রকাশ করল জান্তা সরকার। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার হালনাগাদ কিছু জানানো হয়নি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১৫ পিএম

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি অবৈধ সোনার খনি ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ রয়েছেন ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।



দেশটির নারিনো বিভাগের সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে পৌরসভার প্রত্যন্ত চামবেরো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নারিনোর গভর্নর লুইস আলফোনসো এসকোবার জানিয়েছেন, খনিতে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।



নারিনো দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মকর্তা হোর্হে তোভার কাস্তিয়ো জানান, দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে ঘন বৃষ্টিবনবেষ্টিত একটি দুর্গম অঞ্চল। সেখানে নৌকা কিংবা ছোট উড়োজাহাজে করে পৌঁছানো সম্ভব। ফলে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর এসকোবার খনিটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার মানুষের জীবন রক্ষা করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।



কলম্বিয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে অনানুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রণহীন খননকাজের প্রবণতা রয়েছে। এসব খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অবকাঠামোর অভাবে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।



এর আগে, গত আগস্টে নারিনো বিভাগের পোলিকারপা পৌরসভায় একই ধরনের এক খনি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম


সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে শহরটিতে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।



বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, রাজধানী রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণকে বার্তা পাঠানো হয়েছে।



এদিকে, ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি দাবি করেছেন, সৌদি বাহিনী রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হুথি বিদ্রোহীদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে।



তবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পরও এ ঘটনায় কোনো হতাহত কিংবা স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সূত্র: এএফপি

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

হরমুজ প্রণালির উপরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে বলে দাবি আইআরজিসির।


ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাতে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।


বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর পরিচালিত একটি নতুন, অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে হরমুজ প্রণালির উপরে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর’ ড্রোনটিকে শনাক্ত করার পর ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে এই বাধা প্রধান ও ধ্বংস করার ঘটনাটি ঘটেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।


মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা পরিষেবার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত আকাশযান ও ড্রোনের সংখ্যা অন্তত ৮১টি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।


বিরল এই দাপ্তরিক তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো বিমানগুলোর মধ্যে এফ-৩৫এ লাইটনিং টু ষ্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ জঙ্গিবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ছিল।


এই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোন হারিয়েছে। এই এমকিউ-৯ রিপারের প্রতিটির মূল্য তিন কোটি থেকে পাঁচ কোটি ডলার।


এখন আইআরজিসির আরেকটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি সত্য হলে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোনের সংখ্যা ৪৬টি হবে।


চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ এখন হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।


যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ প্রায় কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে। এর পাল্টা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।


সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাদ্যম গালফ নিউজ এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, হিজরি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় প্রতিবছর রমজান ১০ থেকে ১২ দিন এগিয়ে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের রমজান আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১০-১১ দিন আগে শুরু হতে পারে।


জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) রমজান শুরু হতে পারে। ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা গেলে সেই রাতেই প্রথম তারাবি এবং পরদিন থেকে রোজা শুরু হবে। তবে চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে।


রমজান ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ মার্চ (বুধবার) ঈদুল ফিতর হতে পারে।


ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এ মাসেই মহানবী (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়। রমজানে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ধূমপান থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন এবং নামাজ, তিলাওয়াত, দান-সদকা ও আত্মসংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।


২০২৭ সালের রমজানকে সামনে রেখে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মুসলিম দেশগুলো মসজিদ ও জনসেবামূলক কাজের প্রস্তুতি নেবে। পাশাপাশি, ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ঘোষণা করবে।


জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হলেও, এর চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ওপরই নির্ভর করে—যেটি মূলত চাঁদ দেখার বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

সর্বশেষ সব খবর