জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণ করেছে।


রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সংস্কার, ট্রেড ফেসিলিটেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং করের আওতা সম্প্রসারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বল্প মেয়াদে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এনবিআর।


রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া এসব উদ্যোগ স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পৃথক করার লক্ষ্যে ‌‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।


ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত National Implementation Committee for Administrative Reform (NICAR) এর সভায় রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ দুটি বাস্তবায়নে সরকারের Rules of Business এবং Allocation of Business সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে নিকার সভার এ সিদ্ধান্ত একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


এতে বলা হয়, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কার্যকর মনিটরিং, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নানামুখী কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ এবং ইতোপূর্বে ফাঁকি দেওয়া কর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে এ সময়ে গতিশীলতা এসেছে।


চলতি অর্থবছরের জুলাই-২০২৫ হতে ডিসেম্বর-২০২৫ এই ছয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোট ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে যা গত অর্থ বছরের একই সময়কালের মোট আদায়ের চেয়ে ২৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেশি।


বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রামে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কাস্টমস হাউস এবং কাস্টমস একাডেমি নির্মান কাজের আন্তর্জাতিক টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।


সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক ও নান্দনিক কর ভবন নির্মান কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অচিরেই চট্টগ্রাম কর ভবনের নির্মান কাজ শুরু হবে।


খুলনা কর ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয়েছে যা আগমী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুভ উদ্বোধন করা হবে।


দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য ১০ বছর মেয়াদি Medium and Long Term Revenue Strategy (MLTRS) গ্রহণ করা হয়েছে। এ কৌশলের মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে Strengthening Domestic Revenue Mobilization Project (SDRMP) গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এনবিআরের সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে Tax Expenditure Policy and Management Framework (TEPMF) প্রণয়ন করে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩; কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ সংশোধন করে কর অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে সংসদের অনুমোদন ব্যতীত কোন কর অব্যাহতি দেয়া যাবে না। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; কাস্টমস আইন, ২০২৩; আয়কর আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, কাস্টমস আইন এবং আয়কর আইনের বিধি-বিধান যথাযথভাবে জানবেন বিধায় রাজস্ব সংক্রান্ত আইনের প্রতি করদাতাগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশের ফলে আইনগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থবোধকতা দূর হবে এবং দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ উন্নতিতে সহায়তা করবে।



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, আয়কর আইন যথাযথভাবে পরিপালন করে আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং আয়কর পরিশোধে করদাতাগণকে পেশাদারী সেবা প্রদানের সুবিধার্থে এবং কর সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আয়করের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ হাজার ৫ শত জনকে Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান করা হয়েছে।  প্রথমবারের মতো এ বছর Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান সংক্রান্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়ায় আয়কর পেশাজীবীগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।



অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে নতুন অর্থবছরের শুরুতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং তাঁদের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্তৃক আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদি A Challan এর মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কাস্টমস এর ASYCUDA World সিস্টেমের সাথে A Challan সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিকারকের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট হতে অফলাইন অথবা অনলাইন পদ্ধতিতে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে শুল্ক-কর জমা দেয়ার নতুন যুগের সূচনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের Asycuda World এবং অর্থবিভাগের iBAS++ টিম। এছাড়া, Mobile Financial Service (MFS) এর মাধ্যমে ঘরে বসেই A Challan এর মাধ্যমে যে কোন পরিমান কর অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই bkash করদাতাগণের জন্য তাদের Merchant Account ব্যবহার করে কোন প্রকারের ফিস বা চার্জ ব্যতীত যে কোন পরিমান কর পরিশোধের এ ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যান্য MFS সেবাদানকারী সংস্থার জন্য কর পরিশোধের এ সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে।



ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। এ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ উপস্থিত হয়ে কাস্টমস, আয়কর এবং ভ্যাট বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিকট উপস্থাপন করতে পারছেন। এতে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে সেগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে।



ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA) কর্তৃক জারীকৃত সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ASYCUDA অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল তথ্যসম্পদের নিরাপত্তা জোরদার ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (Security Operations Center-SOC) স্থাপন করে তা চালু করা হয়েছে। SOC-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসের সাইবার স্পেসে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সাইবার আক্রমণ, ঝুঁকি, সন্দেহজনক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সাইবার হুমকি সার্বক্ষণিকভাবে (২৪X৭ দিন) পর্যবেক্ষণ, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।



বৃহত্তর জনস্বার্থে গৃহীত কার্যক্রম: এনবিআরের তথ্যমতে; হজ ব্যয় হ্রাসের সরকারের মহতি উদ্যোগকে সফল করতে এবং ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের হজ পালনের আঙ্খাংকা পূরণ ও হজ পালনের ব্যয় হ্রাসের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের স্বার্থে ২০২৫ এবং ২০২৬ সনের হজ যাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর প্রযোজ্য আবগারী শুল্ক হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় এবং পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহণ মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইতোপূর্বে মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।



ধর্মপ্রাণ জনগণের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে খেজুরের মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে রমজান মাস উপলক্ষ্যে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে এবং অগ্রিম আয়কর ৫০% হ্রাস করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে চাল, আলু, পেয়াজ, চিনি, ডিম, তাজা ফল, ভোজ্যতেল, ক্যানুলা তেল ও কীটনাশকের ওপর আয়কর, ভ্যাট, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও রেগুলেটরি শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনীত ৩১ টি গাড়ি যথাসময়ে খালাস না করায় এবং নিলামে যৌক্তিক মূল্য না পাওয়ায় জনস্বার্থে সরকারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।



ব্যাগেজ রুলস আরো কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নতুন ব্যাগেজ রুলস (অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫) জারি করেছে। আগের ব্যবস্থায় শুল্ক পরিশোধ করে একজন যাত্রী একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারতেন, নতুন ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারী যাত্রী শুল্ক পরিশোধ না করে প্রতি বছরে একবার একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন। তবে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক ইস্যুকৃত BMET কার্ডধারী এবং ন্যূনতম ০৬ মাস বিদেশে অবস্থান করেছেন এমন প্রবাসী বাংলাদেশীগণ কোন শুল্ক-কর না দিয়ে বছরে ২ টি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন।



মোবাইল ফোনের মূল্য ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫% হতে কমিয়ে ১০% নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০% কমেছে। কাস্টমস ডিউটি হাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০% থেকে হ্রাস করে ৫% ধার্য্য করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০% কমেছে। মোবাইল আমদানি এবং মোবাইল ফোন উৎপাদন উভয়ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর কারণে দেশে মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমানে হ্রাস পাবে।


ভ্যাট খাতে অগ্রগতি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন গ্রহণ, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ভ্যাট স্মার্ট চালান প্রবর্তন, ভ্যাট ফাঁকি মোকাবেলায় 'রিস্ক-বেসড' অডিট সিস্টেম চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল ভ্যাটদাতা যেনো নির্বিঘ্নে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে পারে সে লক্ষ্যে ইতোপূর্বে দাখিলকৃত সকল কাগজের রিটার্ন eVAT সিস্টেমে এন্ট্রি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


ভ্যাট দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে ১০ ডিসেম্বর হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী ১ লক্ষ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে চিহ্নিতকরণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষ এই ক্যাম্পেইন ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ডিসেম্বর, ২০২৫ মাসে ১ লক্ষ ৩১ হাজার অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুন ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান করেছে। অন্তর্বর্তি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ১৬ হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার।



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড আবেদন গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে অনলাইনে VAT Refund স্থানান্তরের লক্ষ্যে Online VAT Refund Module চালু করেছে। Online VAT Refund Module চালুর মাধ্যমে বিদ্যমান ভ্যাট ব্যবস্থাপনার eVAT System এর সাথে অর্থ বিভাগের iBAS++ এর আন্ত:সংযোগ স্থাপন পূর্বক করদাতার প্রাপ্য ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network) এর মাধ্যমে সরাসরি করদাতাদের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তর করা হচ্ছে।


আয়কর ব্যবস্থার সংস্কার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিকগণ ব্যতীত সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। চলতি অর্থ বছরে ইতোমধ্যে ৩৪ লক্ষাধিক ই-রিটার্ন জমা পড়েছে। কোনরুপ কাগজপত্র বা দলিলাদি 

আপলোড না করে সম্মানিত করদাতাগণ তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।


এ বছর বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাগণের জন্য মোবাইল ফোনের পরিবর্তে তাঁদের নিজস্ব ই-মেইলে OTP প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ভিসা-সিলের কপি, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি তথ্য এবং ছবি ereturn@etaxnbr.gov.bd ইমেইলে প্রেরন পূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে। উক্ত লিংকের মাধ্যমে ই-রিটার্ন পোর্টালে OTP ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাগণ ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন বিধায় এটি প্রবাসী বাংলাদেশীগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৫ হাজারের বেশী প্রবাসী বাংলাদেশী করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।


ই-রিটার্ন এবং Asycuda World সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আমদানিকারক করদাতাগণ কর্তৃক আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে ক্রেডিট দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে করদাতাগণের আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত করের ক্রেডিট পাবার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পূর্ণ অবসান করা সম্ভব হয়েছে। করদাতাগণ যেন তাদের অতিরিক্ত পরিশোধিত আয়কর অনলাইনে সহজে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসেবে সরাসরি ফেরত পেতে পারেন সে লক্ষ্যে online tax refund module প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই ভ্যাটের অনুরুপ অনলাইনে সরাসরি করদাতার নিজস্ব ব্যাংক হিসেবে আয়কর ফেরত প্রদান ব্যবস্থা চালু করা হবে। Double Taxation Avoidance Agreements এর আওতায় বিদেশী বিনিয়োগকারিগণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যে সকল সনদ গ্রহণ করতে হয় তা Bangladesh Single Window সিস্টেম থেকে সরাসরি অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া, বিদেশী করদাতাগণের বাংলাদেশ ত্যাগের প্রাক্কালে যে Tax Clearance Certificate গ্রহণ করতে হয় তা অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিদেশী নাগরিকগণের বাংলাদেশে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ত্যাগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড Risk Based Audit Selection Criterion এর ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অফলাইনে দাখিলকৃত সকল পেপার রিটার্নের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডাটাবেজে এন্ট্রি না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে ২০২৩-২৪ কর বর্ষের দাখিলকৃত প্রত্যেক সার্কেলের রিটার্নের ০.৫% ডিজিটাল উপায়ে Random Selection পদ্ধতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অডিট মামলা যথাযথভাবে নিষ্পত্তির সুবিধার্থে প্রথমবারের মত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অডিট নির্দেশিকা প্রণয়ন পূর্বক তা অনুসরণ করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।


কর প্রদান ব্যবস্থাকে সহজ করে করদাতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সারাদেশে নতুনভাবে Spot Assessment কার্যক্রম শুরু করেছে। যে সকল করদাতার করযোগ্য আয় এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে অথচ আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না, তাদের ব্যবসাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরাসরি সেবাপ্রদান করে সহজে রিটার্ন গ্রহণ করার জন্য Spot Assessment একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। এই কার্যক্রম নতুন করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়কর প্রদান করতে উৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চল এই কার্যক্রম শুরু করেছে যা ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে কর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়ন: Bangladesh National Window (BSW) চালু করা হয়েছে। সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট ইস্যুকারী ১৯ টি সংস্থা ইতোমধ্যে BSW সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে এবং অনলাইনে সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট প্রদানের কার্যক্রম সম্পাদন করছে। গত ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হতে পরিপত্র জারীর মাধ্যমে সকল সংস্থার (১৯ টি) ক্ষেত্রেই BSW সিস্টেম এর মাধ্যমে CLP প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। BSW এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লক্ষ সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট অনলাইনে ইস্যু করা হয়েছে। অনলাইনে ইস্যুকৃত এসব সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিটসমূহের মধ্যে ৮৪ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ ঘণ্টার মধ্যে এবং ৯৫ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ দিনের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদিত হয়েছে।


রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আংশিক রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুবিধা প্রদান করে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান বন্ড ব্যবস্থাপনার শর্তাদি মেনে যেসকল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্স গ্রহণ সম্ভবপর হয়ে ওঠে না তাদের জন্য শুল্ক-করাদি পরিশোধ না করে কাঁচামাল/ পণ্য আমদানি করার সুবিধা দেয়া হয়েছে।


রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে জরুরি বিবেচনায় বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মালামাল খালাস সংক্রান্ত নানাবিধ জটিলতা নিরসনকল্পে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি নির্দেশনা জারি করেছে। উক্ত নির্দেশনা অনুসারে বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত পণ্যের বর্ণনা ও HS Code অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা দাখিল করার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভিন্ন HS Code বা ভিন্নতর পণ্যের বর্ণনা নিরূপণ করলে এবং নিরূপিত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট এর সাথে মিল থাকলে উক্ত HS Code অথবা পণ্যের বর্ণনা বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকারনামা দাখিল করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস হতে দ্রুত পণ্যচালান খালাস করা যাচ্ছে। ASYCUDA World সিস্টেমে "Truck Movement" নামক একটি নতুন সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাকের বাংলাদেশে প্রবেশ এবং খালি ট্রাকের ভারতে ফেরতের তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। এটি পেপারলেস কাস্টমস বাস্তবায়নের একধাপ অগ্রগতি। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলে এ সাব-মডিউলটির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই দেশের সকল স্থলবন্দরে এর লাইভ অপারেশন চালু করা হবে।


বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমুদ্র ও নৌবন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশন কর্তৃক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই খাতে লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না এবং কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। শিপিং এজেন্ট সংক্রান্ত কার্যাবলী পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই স্বতন্ত্র শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।


প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আমদানি ও রপ্তানিকারকগণের জন্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ রহিত করে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুসরণে কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ইতঃপূর্বে সি অ্যান্ড এফ লাইসেন্স প্রদানের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না। কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ থেকে Utilization Permission (UP) ইস্যু সংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে CBMS সফটওয়্যারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেই অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ০৩ (তিন) টি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে সকল UP অনলাইনে জারী করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে সকল সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে গত ০১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখ হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড CBMS নামক স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালু করে। উক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির জন্য শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে অনলাইনে UP গ্রহণ করতে পারছে। তাছাড়া, BGMEA এর UD Declaration সিস্টেমের সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা প্রায় ৬০৬৯ কন্টেইনার (প্রায় ১০,০০০ TEUs) এর ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলামে বিক্রয় করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি বিশেষ আদেশ জারী করেছে। ইতোমধ্যে উক্ত কন্টেইনারসমুহের মালামালসমূহের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে ২ হাজারের বেশী কন্টেনার অকশন সম্পন্ন করে প্রায় ৮ শত কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামকারীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস দ্রুততার সাথে চলমান নিলাম সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সার্বিকভাবে, নীতি সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদকালে রাজস্ব ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে-যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১০ পিএম

মাত্র তিন দিন আগে দাম কমানোর পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক লাফে দুই হাজার ২১৬ টাকা বেড়ে ভ্যাটসহ দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।


বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।


সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। যেহেতু স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে।


এর আগে ২৪ জুলাই স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে তিন হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ দুই লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।


তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম এক লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা


রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০২ পিএম

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আলাদা করে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে দেখার সময় যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। 


আরিফ হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালাবে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে ব্যাংকভিত্তিক যে তদন্তগুলো চলছে, সেখানে কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা ব্যাংকের কাস্টমার।


আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকে ইন্সপেকশন করে। তদন্তের সময় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোনো ব্যক্তি অনিয়ম করলে, সেই অনিয়মের সঙ্গে পর্ষদ জড়িত কি না সেটাও দেখা হয়।’


তিনি যোগ করেন, ‘এটা ব্যাংক নিজেরাই অডিট করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও করে এবং এক্সটার্নাল অডিটও হয়।


এটা কোনো ব্যক্তি বিশেষকে টার্গেট করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক করবে না। বিশেষ প্রায়োরিটি নিয়ে কিংবা টার্গেট করে কাজ করছে, এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’


গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর এক দিন পর আজ রবিবার বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানের বাসায় ওঠেন তিনি।


এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে।


রবিবার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।


প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০৮ এএম

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬: ড্রাইভিং ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস অ্যান্ড প্রসপারিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ইনভেস্টরস এক্সপোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেমন নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সরলীকরণ, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ চায়।


তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ভ্যাট ও কর ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:১৭ এএম

চলতি করবর্ষে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন প্রথম প্রান্তিকেই দাখিল করে প্রণোদনা পেতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে এনবিআর।


করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করে বুধবার এনবিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে।


এনবিআর বলছে, করসেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বুধবার থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের এই সুবিধা দিচ্ছে; এতে করে করদাতারা এখন ঘরে বসেই তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন।


২০২৬-২০২৭ করবর্ষ হতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নিট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা প্রণোদনা পাওয়ার বিধান রয়েছে।


ফলে এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা প্রণোদনা পাবেন। এই সময়ের পর দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না বরং ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে দাখিলকৃত রিটার্নে অতিরিক্ত কর প্রদান করতে হবে।


তাই এনবিআর 'যথাসময়ে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের ‘বিশেষ অনুরোধ করছে' বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।


২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালুর পর থেকে পদ্ধতিটা করদাতাদের মাঝে সাড়া ফেলে।


২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ আখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।


এদিকে এনবিআর এবারেও গত করবর্ষের মতই বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।


তবে, ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।


এছাড়াও, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাগণ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।


জাতীয় রাজস্ব বের্ডের www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস এর মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপা<ই সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে রিটার্ন প্রস্তুতপূর্বক রিটার্ন জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।


অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সেবা দেবেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৪১ এএম

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।


নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


এদিকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯০ টাকা, সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ এএম

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডলারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে; আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে তিন সপ্তাহে দর বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা দশমিক ৫১ শতাংশ।


সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা; সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা। গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৩৮ পয়সা। কয়েকটি ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে দাম রাখা হয়েছে ১২৪ টাকার বেশি। আর খোলা বাজারে ডলারের দর ১২৬ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে।


বুধবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা। সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ছিল ১২২ টাকা ৯৭ পয়সা। আর তিন সপ্তাহ আগে ২৪ জুন গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।


এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ১ পয়সা।


এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সা বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।


বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলছেন, চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বাড়ছে। তবে ব্যাংক খাতের কেউ কেউ বলছেন, সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে ‘খুশি করতে’ ডলারের দর বাড়ানো হচ্ছে। আইএমএফ বরাবরই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে।


আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়ায় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি খোলা বাজারেও (কার্ব মার্কেট) বাড়ছে দাম।


রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক বৃহস্পতিবার ১২৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকায়।


বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।


সিটি ব্যাংকও ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।


বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ১২৬ টাকা ৬০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়েছে; ক্রয় মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ৩০ পয়সা।


গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়; কেনা হয় ১২৫ টাকা ২০ পয়সায়।


মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হঠাৎ করেই ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে; সে তুলনায় সরবরাহ নেই। সে কারণেই দাম বাড়ছে।”


একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।


তিনি বলেন, “সরকারি কয়েকটি পেমেন্ট ছিল। সে কারণে ডলারের চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বেড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে ডলারের দর আর বাড়বে না।”


তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা বাড়ায় কিছুদিন ধরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।


আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফরের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে আরিফ খান বলেন, “আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফর বা তাদের শর্তের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত চাহিদা বাড়ার কারণেই বেড়েছে।”


তবে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, “আইএমএফ বহুদিন ধরেই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দিতে বলছে। সংস্থাটির সঙ্গে নতুন সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ পাওয়ার পথ সহজ করতে আইএমএফকে খুশি করতে ডলারের দাম বাড়ানো হতে পারে।”


আইএমএফ যা বলছে


এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি দলটি তাদের এবারের বৈঠক শেষ করেছে।


১২ জুলাই থেকে এই প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আইএমএফ একটি বিবৃতি দিয়েছে, তাতে মুদ্রা বিনিময় বিষয়ে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ফলপ্রসূ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখতে হবে।


সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থায় যে ‘ক্রলিং পেগ’ চালু করেছিল বাংলাদেশ, তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিনিময় হার আরও নমনীয় হবে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতাও সুরক্ষিত থাকবে।


ক্রলিং পেগ হচ্ছে এমন একটি বিনিময় হার ব্যবস্থা, যেখানে একটি দেশের মুদ্রার বিনিময় হারকে একবারে পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় না, আবার পুরোপুরি স্থিরও রাখা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট নিয়মে ধীরে ধীরে বিনিময় হার সমন্বয় করে। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম এক দিনে বড় পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি বা কমানোই হচ্ছে ক্রলিং পেগ।