প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১:২৬ এএম

একটি সুন্দর সকাল একটি সুন্দর দিনের শুভ সূচনা করে। একটি সঠিক পরিকল্পনা যেমন পুরো প্রচেষ্টাকে একটি সফল যাত্রায় পরিণত করতে পারে, ঠিক সেভাবেই আপনি আপনার দিনের শুরুটা কীভাবে করছেন, তার ওপর নির্ভর করে আপনার বাকি দিনটা কেমন কাটবে।


আমাদের সকালের কাজগুলোতে ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের অনুশীলন পুরো দিনটিকে প্রাণোচ্ছল ও কর্মময় করে তোলে। পরিবর্তন তো একদিনে হুট করে আসে না। তাই ধীরে ধীরে একটি-দুটি করে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসের অনুশীলন শুরু করুন।


সেগুলো যখন আপনার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে উঠবে, তখন একইভাবে আরও কিছু ইতিবাচক অভ্যাসকে আপনার জীবনের সঙ্গে যুক্ত করুন। দেখবেন, আগের তুলনায় সকালগুলো অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে, আর এর প্রভাব পড়বে আপনার সারাদিনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও কর্মজীবনে।


চলুন জেনে নেওয়া যাক সকালটা ভালোভাবে শুরু করার ১০টি সহজ অভ্যাস সম্পর্কে।


মেডিটেশন করা


মেডিটেশন আমাদের মনকে শান্ত ও বুদ্ধিদীপ্ত করে তোলে এবং গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য মানসিক স্থিতি সৃষ্টি করে। সারাদিন কী কী করতে হবে তা নিয়ে দিনের শুরুতে আমাদের মনে নানা অস্থির ভাবনা শুরু হতে থাকে। সকালে মেডিটেশন করলে আমাদের মন একটি প্রশান্তিদায়ক অনুভূতির মাধ্যমে দিন শুরু করে। মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে, ফলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায় এবং দিনের কাজগুলো নিয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করা যায়। এক কথায়, ইতিবাচক অনুভূতি নিয়ে দিনের শুরু হয়।


যারা নিয়মিত সকালে মেডিটেশন করেন, তারা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি বিচক্ষণতার সঙ্গে চাপের পরিস্থিতিগুলো সামলাতে সক্ষম হন।


ব্যায়াম করা


কর্মব্যস্ত জীবনে সকালে অনেকেরই কর্মস্থলে যাওয়ার তাড়া থাকে, আবার কারও থাকে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করা বা হাঁটতে যাওয়ার জন্য আলাদা সময় বের করা সহজ হয়ে ওঠে না। তবে কথায় আছে না, ‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’।


সকালে কিছুটা সময় ব্যায়াম করলে বা হাঁটাহাঁটি করলে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে শরীর চাঙা ও সতেজ অনুভূত হয়, আর সারাদিনের কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।


ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা


অনেকেই এক কাপ চা বা কফি দিয়ে দিন শুরু করেন। সারারাত ঘুমের পর সকালে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় শরীরের প্রয়োজন ক্যাফেইন নয়, বরং এক গ্লাস পানি। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই পানি পান করলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হয়।


আমাদের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশই পানি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। এটি শরীরের বিভিন্ন কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে তা শুধু শরীরের ওপর নয়, বরং আমাদের মুডের ওপরও প্রভাব ফেলে।


তাই আর দেরি নয়, আজ থেকেই ঘুমানোর আগে মাথার পাশের টেবিলে এক বোতল পানি রেখে দিন। এটি আপনাকে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করার কথা মনে করিয়ে দেবে।


মুক্ত বাতাসে সময় কাটানো


সকালে ঘর ছেড়ে বেরোতে কার ভালো লাগে, বলুন! তবে প্রতিদিন সকালে খোলা আকাশের নিচে, সবুজের সান্নিধ্যে বা মিষ্টি রোদের সংস্পর্শে কিছুটা সময় কাটালে আপনার মানসিক চাপ কমে, উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস পায় এবং হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়।


শুধু তাই নয়, এর ফলে শরীর সতেজ লাগে এবং মানসিক প্রশান্তি আসে, যা দিনের বাকি সময়গুলোর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন যদি কারও পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত সপ্তাহের কয়েকটি সকালে এই অভ্যাসটি গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।


উঠেই স্ক্রিনে সময় না দেওয়া


সকালটা শুরু হওয়া উচিত নির্ভাবনায়, খুশি মনে। কিন্তু দিনের শুরুতেই ঘুম থেকে উঠে সোশ্যাল মিডিয়া, খবর বা মেইল—এসব চেক করলে নানা বিষয় আমাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। ফলে অনেক সময় সকালের প্রাত্যহিক রুটিন থেকে মনোযোগ সরে যায় এবং স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণও বেড়ে যেতে পারে। তাই চেষ্টা করুন সকালে স্ক্রিন টাইম যতটা সম্ভব কম রাখতে।


‘টু-ডু’ লিস্ট তৈরি করা


আমাদের সবারই জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে এবং প্রতিদিন একটু একটু করে চেষ্টা করতে করতে একসময় আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাই। প্রতিদিন সকালে খুব বেশি নয়, মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিজের লক্ষ্য ও দিনের দায়িত্বগুলো সম্পর্কে ভাবুন। এরপর সেই অনুযায়ী সারাদিনে কী কী করবেন, তার একটি ছোট তালিকা তৈরি করুন। এতে সারাদিনের কাজ সম্পন্ন করা এবং সেগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়।


কিছুক্ষণ ডায়েরি লেখা


কোনো সুখবর, সাফল্য বা সুখস্মৃতির কথা আমাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। কখনো কি নিজের জীবনের কোনো কাজ বা সাফল্যের জন্য নিজেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন? যদি না করে থাকেন, তবে চলুন—শুরুটা আজ থেকেই হোক।


প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ডায়েরির পাতায় ছোট্ট করে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এমন কিছু লিখুন, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ; অথবা এমন কোনো অর্জনের কথা, যা আপনাকে গর্বিত করে; কিংবা এমন কোনো লক্ষ্য, যার জন্য আপনি বর্তমানে কাজ করছেন। এই ছোট্ট অভ্যাসটি দিনের শুরুতেই আপনার মনে এক ধরনের ইতিবাচকতা তৈরি করবে।


কিছুক্ষণ বই পড়া


বইকে বলা হয় মানুষের পরম বন্ধু। সকালে কিছুটা সময় বই পড়ার অভ্যাস আপনাকে নতুন ধারণা দেবে এবং ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ভালো মানের মোটিভেশনাল বই, বিভিন্ন সহায়ক বই বা শেখার বই আপনাকে নতুন অনেক কিছু জানতে, শিখতে ও বুঝতে সহায়তা করবে। দিনের শুরুটা নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে হলে তা আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।


লেবু পানি পান করা


সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এটি লিভার ও কিডনিকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন ‘সি’ ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে শরীরকে রক্ষা করে এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ক্ষত সারাতে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।


স্বাস্থ্যসম্মত নাশতা গ্রহণ করা


অনেকেই সকালের নাশতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেন না। কিন্তু একটি স্বাস্থ্যসম্মত নাশতা আপনাকে সারাদিনের জন্য নানা দিক থেকে সহায়তা করে। এর ফলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায় এবং মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়। যারা নিয়মিত সকালের নাশতা গ্রহণ করেন না, তাদের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


সকালের নাশতা অবশ্যই প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ হওয়া উচিত।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫০ এএম

চুল পড়ার সমস্যায় আমরা সাধারণত শ্যাম্পু পরিবর্তন করি বা দামি হেয়ার সিরাম ব্যবহার করি। অনেকে আবার বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকা বা সাপ্লিমেন্ট নিতে শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের যত্নে বাইরে থেকে কী ব্যবহার করছেন তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার শরীর ভেতরে কী ধরণের পুষ্টি পাচ্ছে। প্রতিটি চুলের গোছার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। এই প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হলে বা ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট হতে পারে।


সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার লাইফস্টাইল বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে এমন ৮টি খাবারের কথা উঠে এসেছে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে আপনার চুলের ক্ষতি হতে পারে:


১. মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তনটি এমন কিছু হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে যা চুলের তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং চুল পাতলা করে ফেলে। এছাড়া চিনি শরীরের প্রদাহ বাড়ায় যা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।


২. ডিপ-ফ্রাইড ফাস্ট ফুড: ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন বা চিপস জাতীয় খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ক্যালোরি অনেক বেশি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগুণ থাকে না বললেই চলে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরে জিঙ্ক, আয়রন ও প্রোটিনের অভাব দেখা দেয়, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।


৩. অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার: ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা প্রক্রিয়াজাত মাংসে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট এবং প্রিজারভেটিভ থাকে। চুলের টিস্যু শরীরের দ্রুত বর্ধনশীল টিস্যুগুলোর অন্যতম, যার জন্য নিরবচ্ছিন্ন পুষ্টির প্রয়োজন হয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার এই পুষ্টির জোগান দিতে ব্যর্থ হয়।


৪. পারদ সমৃদ্ধ মাছ: মাছ সাধারণত চুলের জন্য ভালো হলেও সমুদ্রের বড় শিকারি মাছ যেমন- সোর্ডফিশ, শার্ক বা কিছু বিশেষ জাতের টুনা মাছ অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। কারণ এসব মাছে পারদ বা মার্কারির পরিমাণ বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।


৫. অতিরিক্ত ভিটামিন এ: ভিটামিন এ চুল ও ত্বকের জন্য ভালো, তবে ‘বেশি মানেই ভালো’ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাপ্লিমেন্ট বা ফোর্টিফাইড খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে চুলের ফলিকলগুলো অকালেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।


৬. অ্যালকোহল: অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে এবং জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। যেহেতু চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি, তাই পুষ্টির এই অভাব নতুন চুলকে দুর্বল করে ফেলে।


৭. খুব কম প্রোটিনযুক্ত ডায়েট: চুল প্রধানত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ক্রাশ ডায়েট বা ওজন কমানোর জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার (যেমন- ডাল, ডিম, মাছ, দুধ) বাদ দিলে শরীর অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গগুলোকে বাঁচাতে চুলের পুষ্টি বন্ধ করে দেয়, ফলে প্রচুর চুল ঝরে যায়।


৮. রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল খুব দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সময়ের সাথে সাথে এই পরিবর্তনগুলো হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে এবং চুলের বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটায়।


মাঝেমধ্যে এসব খাবার খাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই, তবে এগুলো যেন আপনার প্রতিদিনের প্রধান খাবারে পরিণত না হয়। একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাবারই পারে আপনার চুলকে মজবুত ও উজ্জ্বল রাখতে।

বিষয় : চুল


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৭ পিএম

আজকাল দেখা যাচ্ছে একই বাড়িতে থাকেন, প্রতিদিন দেখা হয়, সংসারের সব দায়িত্বও একসঙ্গে সামলান -তারপরও দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক দূরত্ব। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখালেও ভিতরে ভিতরে তারা অনুভব করছেন একাকীত্ব। 


মনোবিদদের ভাষায়, একে বলা হয় ‘ইমোশনাল লোনলিনেস’-যেখানে একসঙ্গে থেকেও মানুষ নিজেকে একা অনুভব করেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং যোগাযোগের অভাবের কারণে এই সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী কারণে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব। 


কথোপকথন কমে যাওয়া


সম্পর্কে মানসিক দূরত্বের অন্যতম বড় কারণ হলো যোগাযোগের অভাব।দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিস, সংসার, সন্তান কিংবা আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আবেগও কমতে থাকে।


অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া


অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিজের মনের কথা বলতে চান, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। বারবার এমন হলে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আর আগ্রহ পায় না। বরং ভিতরে জমতে থাকে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি।


কথোপকথন কমে যাওয়া


সম্পর্কে মানসিক দূরত্বের অন্যতম বড় কারণ হলো যোগাযোগের অভাব।দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিস, সংসার, সন্তান কিংবা আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আবেগও কমতে থাকে।


অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া


অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিজের মনের কথা বলতে চান, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। বারবার এমন হলে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আর আগ্রহ পায় না। বরং ভিতরে জমতে থাকে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৭ পিএম

ভাত বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে একটি ধারণা বেশ প্রচলিত যে, ভাত মানেই কার্বোহাইড্রেট, আর কার্বোহাইড্রেট মানেই ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া। তাই অনেকে সাদা ভাত ছেড়ে ব্রাউন রাইস বা অন্য চালের দিকে ঝুঁকেন। কিন্তু সত্যি হলো, সব ধরনের চালের পুষ্টিগুণ এক নয়। চালের ধরন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পলিশ করার মাত্রার ওপরই নির্ভর করে কোন ভাত কতটা স্বাস্থ্যকর হবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাতে শুধু কার্বোহাইড্রেটই থাকে না। এতে ফাইবার, বি-ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকতে পারে। তবে চাল যত বেশি পলিশ করা হয়, ততই এর বাইরের আবরণ বা ব্র্যান স্তর নষ্ট হয়ে যায়। আর এই স্তরেই থাকে অধিকাংশ পুষ্টি উপাদান। তাই সঠিক চাল বেছে নেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও সমান জরুরি।


পুষ্টির শীর্ষে ব্ল্যাক রাইস

পুষ্টিগুণের দিক থেকে ব্ল্যাক রাইসকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ চালগুলোর একটি ধরা হয়। এটি সাধারণত আনপলিশড অবস্থায় বাজারে আসে, ফলে এর প্রাকৃতিক পুষ্টি অক্ষুণ্ন থাকে।


গাঢ় কালো বা বেগুনি রঙের এই চালে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এতে পর্যাপ্ত ফাইবার, আয়রন, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ব্ল্যাক রাইস খেলে শরীরের প্রদাহ কমাতে, কোষের ক্ষয় রোধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।


ফাইবার ও মিনারেলে ভরপুর লাল চাল

লাল চালও তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে রয়েছে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন।


যারা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে চান বা ধীরে ধীরে শক্তি পেতে চান, তাদের জন্য লাল চাল একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এটি হজম প্রক্রিয়াকেও তুলনামূলক ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করার ওঠানামাও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে।


স্বাস্থ্যসচেতনদের জনপ্রিয় পছন্দ ব্রাউন রাইস

ব্রাউন রাইসের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। কারণ এটি পলিশ করা হয় না এবং চালের বাইরের ব্র্যান স্তর অক্ষত থাকে।


এতে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। ব্রাউন রাইস ধীরে হজম হয় বলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম লাগে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে কিংবা সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।


সুগন্ধের সঙ্গে পুষ্টিতে সমৃদ্ধ বাসমতি চাল

বাসমতি চাল শুধু সুগন্ধের জন্যই নয়, তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণেও অনেকের কাছে জনপ্রিয়।

বাসমতির দুটি ধরন রয়েছে-সাদা ও বাদামি। বাদামি বাসমতি রাইসে ফাইবার ও খনিজ উপাদান বেশি থাকে, কারণ এটি কম প্রক্রিয়াজাত। অন্যদিকে সাদা বাসমতি চাল পলিশ করা হলেও এতে অ্যামাইলোজ তুলনামূলক বেশি থাকে, যা সাধারণ সাদা চালের তুলনায় কিছুটা ধীরে হজম হয়।


বিরিয়ানি, পোলাও কিংবা ফ্রায়েড রাইসের জন্য বাসমতি চালের ব্যবহার বেশি হলেও প্রতিদিনের খাবার হিসেবেও এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।


বেশি খাওয়া হয় সাদা চাল

আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় সাদা চালের ভাত। তবে এটি সবচেয়ে বেশি পলিশ করা হয় বলে এর বাইরের পুষ্টিকর স্তর প্রায় পুরোপুরি অপসারণ করা হয়। ফলে ফাইবার, ভিটামিন এবং অনেক খনিজ উপাদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে এর একটি সুবিধা হলো এটি দ্রুত রান্না হয় এবং সহজে হজম হয়।


তাই সাদা চাল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমিত পরিমাণে সাদা ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসবজি, মাছ, ডিম বা মাংস যোগ করলে সেটিও একটি সুষম খাবারে পরিণত হতে পারে।


কোন চাল খাবেন?

যদি সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ চান, তাহলে ব্ল্যাক রাইস বা লাল চাল খেতে পারেন। প্রতিদিনের জন্য ব্রাউন রাইসও উপকারী। বাসমতি চাল স্বাদ ও তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণে ভালো পছন্দ হতে পারে। আর সাদা চাল খেতে চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবশ্যই প্রোটিন ও শাকসবজির সঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন।


স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শুধু চালের ধরন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আপনি কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন, কী দিয়ে খাচ্ছেন এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ এএম

স্টমাক ওয়াশ বা গ্যাস্ট্রিক ল্যাভাজ হলো বিশেষ নল দিয়ে পাকস্থলীর ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের করার চেষ্টা। উদ্দেশ্য হলো, বিষ শরীরে আরও শোষিত হওয়ার আগেই পাকস্থলী থেকে তা যতটা সম্ভব সরিয়ে ফেলা।


তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষ পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে চলে যায় এবং শরীরে শোষিত হতে শুরু করে। তাই সময় এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সময়


সাধারণত বিষ গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে রোগী হাসপাতালে এলে এবং বিষের পরিমাণ সম্ভাব্যভাবে প্রাণঘাতী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টমাক ওয়াশ বিবেচনা করতে পারেন।


তবে এটিকে কোনো ‘নির্দিষ্ট নিয়ম’ হিসেবে মনে করা যাবে না। রোগীর অবস্থা, কী বিষ খেয়েছেন, কতটা খেয়েছেন এবং কতক্ষণ আগে খেয়েছেন—সবকিছু বিবেচনা করা হয়।


কেন সব সময় করা হয় না


 স্টমাক ওয়াশের কিছু গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। এতে—


> খাবার বা পাকস্থলীর তরল ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে।


> শ্বাসনালিতে খিঁচুনি


> অক্সিজেন কমে যাওয়া


> হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা


> এমনকি গলা বা খাদ্যনালির আঘাতও হতে পারে


তাই রোগীর জ্ঞান কমে গেলে বা নিজের শ্বাসনালি সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা না থাকলে, বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া স্টমাক ওয়াশ করা বিপজ্জনক।


কোন ক্ষেত্রে করা যাবে না?


অ্যাসিড বা ক্ষারজাতীয় ক্ষয়কারী পদার্থ পান করলে স্টমাক ওয়াশ করা উচিত নয়। এতে ক্ষত আরও বাড়তে পারে। একইভাবে কেরোসিন বা উচ্চমাত্রায় ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকিযুক্ত হাইড্রোকার্বন পান করলেও সাধারণত এটি এড়ানো হয়।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, বাড়িতে কখনো নিজে থেকে বমি করানো বা নল ঢুকিয়ে স্টমাক ওয়াশ করার চেষ্টা করবেন না।


এমন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কী বিষ, কতটা এবং কখন খাওয়া হয়েছে—এই তথ্য চিকিৎসককে জানান। সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথিবীর বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে  আগামী ৩০,  ৩১ ও ১ লা আগস্ট ৩ দিনব্যাপী এবং ২ রাত ৩ দিনের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমন্ত্রিত অতিথি, অংশীদারবৃন্দ,  শুভানুধ্যায়ী, উদ্যোক্তা ও সম্মানিত সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।


অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজারের হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে থাকবে কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন, মতবিনিময় সভা এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন আনন্দঘন আয়োজন।



বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি কৃষিভিত্তিক পর্যটন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। আগামী দিনগুলোতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।




বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্ট পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্য ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ এএম

বর্ষাকালে অনেকেই নানারকম পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ সময় পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। এমন কিছু পানীয় আছে যা এ সময়ে অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যেমন-


ঘোল : ঘোলে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকায় অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হজমে সাহায্য করে। 


বিটের রস : বিটে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। 


ধনে ভেজানো পানি :প্রতিদিন ধনে ভেজানো পানি পান করলে হজমশক্তি উন্নত হয়। এই পানি পানে পেট ফাঁপার সমস্যা কমে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। 


আদা চা : প্রতিদিন আদা চা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। নিয়মিত এই চা খেলে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমে। এই চা অন্ত্র সুস্থ রাখে। 


হলুদ মেশানো দুধ : হলুদে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ খেলে হজমশক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।