সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের উল্লাস
দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটি। এত দিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে।
পাঁচ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৩ উইকেটে ৩১। পাঁচ ওভারে ভারতের রান ৩ উইকেটে ২৯। শুরুর বিপর্যয় সামলে দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও, ভারত সেটা পারল না। মিডল অর্ডারে তিনটি ঝড়ো ইনিংসে প্রোটিয়ারা যত রান তুলল পরের ১৫ ওভারে, গোটা ইনিংসেও তা স্পর্শ করতে পারল না ভারতীয়রা।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্টের লড়াইয়ে পাত্তাই পেল না শিরোপাধারীরা। ৭৬ রানের বড় জয়ে সুপার এইটে যাত্রা শুরু করল গতবারের রানার্স আপ দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদাবাদে রোববার ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান। জবাবে ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার চোখরাঙানি এড়িয়ে ১১১ পর্যন্ত যেতে পারে ভারত।
২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত।
বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম রানে ভারত অলআউট হয়েছে কেবল একবারই, ২০১৬ আসরে নাগপুরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৯। রানের হিসাবে বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় হার অবশ্য এটিই। আগের বড় হার ছিল ২০১০ আসরে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৯ রানে। বিশ্বকাপে রেকর্ড টানা ১২ জয়ের পর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল ভারত।
দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক ডেভিড মিলার। চাপের মুখে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাল্টা আক্রমণে সাত চার ও তিন ছক্কায় ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই। চার নম্বরে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২৯ বলে ৪৫ রান করেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ছয় নম্বরে তিন ছক্কা ও এক চারে ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন ট্রিস্টান স্টাবস।
ভারতের হয়ে শিভাম দুবের ৪২ ছাড়া আর কেউ ১৮ রান পার হতে পারেননি। টানা তিন শূন্যের পর অবশেষে বিশ্বকাপে রানের দেখা পেয়েছেন আভিশেক শার্মা। ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার পেস বোলিং অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন। আরেক অলরাউন্ডার কর্বিন বশ ১২ রানে ২টি ও বাঁহাতি স্পিনার কেশাভ মহারাজ ২৪ রানে নেন ৩টি উইকেট।
আহমেদাবাদের ম্যাচটিতে ভারত খেই হারিয়েছে রান তাড়ার শুরুতেই। প্রথম ওভারে ঈশান কিষান আর দ্বিতীয় ওভারে তিলক বর্মাকে হারিয়ে ৫ রানে হারায় ২ উইকেট। শুরুর এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি স্বাগতিকেরা। অভিষেক শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর হয়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও যখন ফেরেন, ভারতের রান ৫ উইকেটে ৫১।
এরপর শিবম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়ার ষষ্ঠ উইকেট জুটি কিছুক্ষণ টিকলেও বাড়তে থাকা রান রেটের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে কেশব মহারাজ বোলিংয়ে এসে ৩৫ রানের জুটিটিই ভাঙেননি, এক ওভারের মধ্যে তুলে নেন পান্ডিয়া রিংকু ও অর্শদীপের তিন উইকেট। এরপর দুবে কয়েকটি বড় শটে দলকে এক শ পার করিয়ে হারের ব্যবধানই কমিয়েছেন যা। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ৩ ছক্কা ১ চারে ৩৭ বলে করেছেন ৪২ রান। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস এটিই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৮৭/৭ (মার্করাম ৪, ডি কক ৬, রিকেলটন ৭, ব্রেভিস ৪৫, মিলার ৬৩, স্টাবস ৪৪*, ইয়ানসেন ২, বশ ৫, রাবাদা ০*; আর্শদিপ ৪-০-২৮-২, বুমরাহ ৪-০-১৫-৩, ভারুন ৪-০-৪৭-১, ওয়াশিংটন ২-০-১৭-০, পান্ডিয়া ৪-০-৪৫-০, দুবে ২-০-৩২-১)
ভারত: ১৮.৫ ওভারে ১১১ (কিষান ০, আভিশেক ১৫, তিলাক ১, সুরিয়াকুমার ১৮, ওয়াশিংটন ১১, দুবে ৪২, পান্ডিয়া ১৮, রিঙ্কু ০, আর্শদিপ ১, ভারুন ০*, বুমরাহ ০; মার্করাম ১-০-৫-১, ইয়ানসেন ৩.৫-০-২২-৪, রাবাদা ৪-০-৩২-০, এনগিডি ৪-০-১৫-০, মহারাজ ৩-০-২৪-৩, বশ ৩-০-১২-২)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড মিলার
ছবি : সংগৃহীত
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে আর্লিং হালান্ডের জয়সূচক গোলটি দেওয়া ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছে ইংল্যান্ডের রেফারিদের সংগঠন প্রফেশনাল গেম ম্যাচ অফিসিয়ালস (প্রো রেফ)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, গোলের সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থান রক্ষণে প্রভাব ফেলেছিল। ফলে সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার জন্য মাঠের রেফারিকে ডাকা উচিত ছিল।
রোববার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারায় ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পর জোসকো জিভার্দিওলের ক্রস থেকে গোল করেন হালান্ড। শুরুতে সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দিয়ে গোলটি বাতিল করেন। পরে দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর হালান্ডকে অনসাইডে বিবেচনা করে গোল বহাল রাখা হয়।
প্রিমিয়ার লিগের প্রাথমিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনায় হালান্ডকে বৈধ অবস্থানে পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে প্রো রেফ জানায়, একই আক্রমণে ফার্নান্দেজের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
প্রো রেফের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ফার্নান্দেজ বল স্পর্শ করেননি। এ কারণে হালান্ডের অফসাইডের বিষয়টি রেফারির বিবেচনার ওপর নির্ভর করছিল। তবে ফার্নান্দেজের অবস্থান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণে কী প্রভাব ফেলেছে, ভিএআর তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে মাঠের রেফারিকে ঘটনাটি পর্যালোচনার সুপারিশ করা উচিত ছিল। আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকার করেছি, এটি আমাদের বিচার-বিবেচনার ভুল ছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’
জো রুট
পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস দিয়ে শুরু সিরিজ। পরের তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ২৪। শেষটা আবার ফিফটি দিয়েই করতে পারলেন জো রুট। তাতে একটি রেকর্ডের তালিকায় তিনি চূড়ায় উঠে গেলেন এককভাবে। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ডে রুট পেছনে ফেলে দিয়েছেন কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে রান তাড়ায় অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে তার ৬৯তম ফিফটি এটি।
সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির (৫১) রেকর্ডধারী টেন্ডুলকার ২০০ ম্যাচে ৬৮টি ফিফটি নিয়ে শেষ করেন ক্যারিয়ার। তার চেয়ে ৩১ ম্যাচ কম খেলে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন রুট। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ৬৬ রানের ইনিংসে টেন্ডুলকারের পাশে বসেছিলেন তিনি।
এই তালিকায় তাদের পরে আছেন শিবনারাইন চান্দারপল (৬৬), অ্যালান বোর্ডার (৬৩), রাহুল দ্রাবিড় (৬৩) ও রিকি পন্টিং (৬২)।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসের রেকর্ড এখনও টেন্ডুলকারের, ১১৯টি (৫১টি সেঞ্চুরি ও ৬৮টি ফিফটি)। এখানে দুই নম্বরে আছেন রুট, ১১০টি (৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬৯টি ফিফটি)। জ্যাক ক্যালিস ও পন্টিংয়ের আছে ১০৩টি করে, দ্রাবিড়ের ৯৯টি।
এ দিন প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এজবাস্টনে এক হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন রুট। এই মাঠে ১১ টেস্টে তার রান এখন এক হাজার ১৮। এখানে ১০ টেস্টে ৮৬৯ রান নিয়ে দুইয়ে আছেন অ্যালেস্টার কুক।
ইংল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান রুট এখন দেশের ভিন্ন চারটি ভেন্যুতে টেস্টে অন্তত হাজার রান করলেন। লর্ডসে তার রান দুই হাজার ২০৩, ম্যানচেস্টারে এক হাজার ১২৮, ওভালে এক হাজার ৫০।
ভিন্ন চারটি ভেন্যুতে হাজার রান আছে আর কেবল ক্যালিস ও পন্টিংয়ের।
এই সংস্করণে রুটের মোট রান এখন ১৪ হাজার ২৭৮। টেন্ডুলকারের রেকর্ড ১৫ হাজার ৯২১ রানের পেছনে ছুটছেন ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোড়ো রাজ্যের সিংহাসনে বসার দারুণ সুযোগ এসেছিল জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসির সামনে। কিন্তু রাজমুকুটের চেয়ে নিজের বর্তমান জীবন এবং ফুটবল মাঠকেই বেছে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের নবম স্তরের ফুটবল ক্লাব এসই ডনসের ৩৬ বছর বয়সী এই গোলকিপার ও অধিনায়ক।
রয়টার্স ও উগান্ডার সংবাদমাধ্যম পালস উগান্ডা জানিয়েছে, তোড়ো রাজ্যের পরবর্তী রাজা হওয়ার জন্য রয়্যাল সাকসেশন কমিটির প্রথম পছন্দ ছিলেন জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। রয়্যাল সাকসেশন কমিটির সদস্য ফাদার ড. চার্লস ওয়ো জানিয়েছেন, কামুরাসি বলেছেন, তার অন্য দায়িত্ব রয়েছে এবং তিনি রাজা হওয়ার দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
কামুরাসি ছিলেন প্রয়াত রাজা ওয়ো নাইমবা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থের চাচাতো ভাই। গত ২৭ আগস্ট ৩৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মারা যান ওয়ো। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পরই নতুন রাজা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রথমে কামুরাসিকেই বেছে নিয়েছিল উত্তরাধিকার কমিটি। তবে তিনি সরে দাঁড়ানোর পর নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সাবেক টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক প্রিন্স এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানাঙ্গোমাকে তোড়োর নতুন রাজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার কামুরাসি ইংল্যান্ডের নন-লিগ ফুটবলে ‘বিগ জি’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয় ক্লাব এসই ডনসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। রাজকীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি ক্লাবের হয়েই মাঠে মনোযোগ দিচ্ছেন।
এসই ডনস এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এফএ কাপে অংশ নিচ্ছে। গত শনিবার এরিথ টাউনকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা দ্বিতীয় বাছাইপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চিচেস্টার সিটির বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ। সিংহাসন প্রত্যাখ্যান করে কামুরাসির সমস্ত লক্ষ্য এখন এই ম্যাচসহ ইংল্যান্ডের ফুটবলের দিকেই।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত
একবার, দুবার নয়, চার চারবার জীবন পেলেন শেফালি ভার্মা। এরপর যা হওয়ার, হলো তা-ই। ভারতের ওপেনার খেললেন ঝড়ো ইনিংস। দল পৌঁছে গেল দেড়শর কাছে। সেই স্কোর তাড়া করার শক্তি তো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নেই। অভাবনীয় কিছু তারা করতেও পারেনি।
অনুমিতভাবেই ভারতের কাছে পাত্তা না পেয়ে আবারও সেমি-ফাইনালেও শেষ নিগার সুলতানার দলের পথচলা।
দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছিলেন, সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়াতে চান তারা। গ্রুপে রানার্স হওয়ায় সেই এড়ানো হয়ে ওঠেনি। নিগারের দল পারেনি চমকপ্রদ কোনো গল্প লিখতে। ৪০ রানের জয়ের উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের ১৪৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ আটকে যায় ১০৯ রানে। গত এশিয়া কাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।
৬ ও ১১ রানে জীবন পেয়ে শেফালি ফিফটি করেন ৩৫ বলে। এরপর রান আউটের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি, ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান আবার। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৪০ বলে ৬৪ রান করে। ২২ বছর বয়সেই তার টি-টোয়েন্টি ফিফটি হয়ে গেল ২০টি! ৭ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসের পর চার ওভার আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।
টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারেই শুরু করে ক্যাচ ছাড়ার পালা। সুলতানা খাতুনের বলে শেফালির ক্যাচ ফেলে দেন ফাহিমা খাতুন।
ওই ওভারেই অবশ্য ধরা দেয় প্রথম উইকেট। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় স্বর্ণা আক্তারের হাতে ধরা পড়েন ভারতের সেরা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা।
ভারতকে আরও চাপে ফেলা যেত পরের ওভারেই। কিন্তু মারুফা আক্তারের বলে এবার শেফালির ক্যাচ ছাড়েন নাহিদা আক্তার। আগ্রাসী ব্যাটার এর খেসারত বুঝিয়ে দেন পুরোপুরি। পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি সুলতানাকে। আরেক পাশে প্রাতিকা রাওয়াল একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও খুব গতিময় হতে পারেননি।
পাওয়ার প্লে শেষে নাহিদা, ফাহিমা, রাবেয়াদের স্পিনে ভারতের রানের গতি যায় কমে। টানা চার ওভারে আসেনি বাউন্ডারি। এর মধ্যেই প্রাতিকা (৪ বলে ২০) ফেরেন রাবেয়ার বলে।
১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৫৯। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মারুফার বলে টানা দুটি বাউন্ডারিতে রানের গতিতে আবার দম দেন শেফালি। অধিনায় হারমানপ্রিত নেমেও ভুগছিলেন রান করতে।
তবে শেফালির ব্যাটে ছুটতে থাকে ভারত। সুলতানাকে টানা তিন বলে এক ছক্কা দুই চার মেরে পরের বলে আবার বড় শটের চেষ্টায় শেষ হয় তার ইনিংস।
এরপরও ভারতকে আবার চেপে ধরতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ নিতে পারলে তো! রিচা ঘোষের ক্যাচ নিতে না পেরে ছক্কা বানিয়ে দেন ফাহিমা। এই কিপার-ব্যাটার পরে ছক্কা মারেন আরেকটি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান।
হারমানপ্রিতের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৮ বলে ৬। পরে দুটি ছক্কা মেরে অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ করে। শেষ দিকে দীপ্তি শার্মার ব্যাট থেকেও আসে ছক্কা ও চার। শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে ৯০ রান।
দেড়শ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। ম্যাচ জমিয়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ছিল শুরুতে দ্রুত রান। কিন্তু হয় উল্টো। পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মোটে ২৬।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারটি উইকেট মেডেন নেন ভারতের এই সময়ের সবচেয়ে ধারাাহিক বোলার শ্রী চারনি। টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসকে আউট করে। ১৮ বল খেলে বাংলাদেশের ওপেনার করতে পারেন কেবল ১৪ রান।
আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার ২৬ বলে করেন মোটে ২১ রান।
ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াইয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় সেখানেই। পরের ব্যাটাররাও পারেননি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে। তিনে নেমে সোবহানা মোস্তারি ১৮ রান করতে বল খেলেন ২৪টি। একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও অধিনায়ক নিগার ১৭ বলে করেন ১৯।
স্বর্ণার ১৮ বলে অপরাজিত ২২ রান দলকে কোনোরকমে একশ পার করায়। কিন্তু রান তাড়ায় একবারও মনে হয়নি, জয়ের ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে শুক্রবার লড়বে পাকিস্তান ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (মান্ধানা ২, শেফালি ৬৪, প্রাতিকা ২০, হারমানপ্রিত ২৪*, চিরা ২১, দীপ্তি ১৩, ফুলমালি ০; মারুফা ৪-০-৪০-১, সুলতানা ৩-০-৩০-২, নাহিদা ৪-০-২৫-১, রাবেয়া ৪-০-২২-১, ফাহিমা ৪-০-২১-০, স্বর্ণা ১-০-১০-০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৭ (জুয়ায়রিয়া ১৪, দিলারা ২১, সোবহানা ১৮, নিগার ১৯, স্বর্ণা ২২*, শারমিন ১, ফাহিমা ১৪, রাবেয়া ০; ক্রান্তি ২-০-১৩-০, নান্দিনি ২-০-১০-২, শ্রী চারনি ৪-১-১৪-১, শেফালি ৪-০-২৫-০, প্রেমা ৪-০-২১-১, দীপ্তি ৪-০-২৬-৩ )।
ফল: ভারত ৪০ রানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।
বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক।
বার্সেলোনায় ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে নতুন ভূমিকায় খেলিয়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন কোচ হানসি ফ্লিক। প্রথাগত সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ঘাটতি পূরণে রাফিনিয়াকে আক্রমণের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন জার্মান এই কোচ। আর তাতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
লা লিগার প্রথম চার ম্যাচেই ছয় গোল করেছেন রাফিনিয়া। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনোর্ডের বিপক্ষে করেছেন আরও দুই গোল। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে তিনি উঠে এসেছেন লা লিগার গোলদাতাদের শীর্ষে।
রাফিনিয়ার এমন পরিবর্তনে অবাক হননি তার সাবেক কোচ ভিটর কাম্পেলোস। ইউরোপে রাফিনিয়ার প্রথম কোচদের একজন এই পর্তুগিজ কৌশলবিদের অধীনে ভিক্টোরিয়া গিমারেজের রিজার্ভ দলে খেলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
কাম্পেলোসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ মৌসুমে পোর্তো বি দলের বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে রাফিনিয়াকে প্রথমবারের মতো মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো হয়েছিল। তখনই তাঁর মধ্যে এই পজিশনে খেলার প্রয়োজনীয় গুণাবলি দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।
বিশেষ করে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলে রাফিনিয়ার দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। একের পর এক ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গোল করার ক্ষমতা তখনই নজরে এসেছিল কাম্পেলোসের।
এক দশক পর বার্সেলোনায় রাফিনিয়ার দুর্দান্ত সূচনা দেখে সেই পুরোনো কোচ মনে করছেন, সেন্ট্রাল-ফরোয়ার্ড পজিশনটি স্থায়ীভাবে নিজের করে নেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর।
রাফিনিয়ার এই সম্ভাব্য রূপান্তরকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের সঙ্গে তুলনা করেছেন কাম্পেলোস। রোনালদোও ক্যারিয়ারের শুরুতে মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেললেও পরবর্তীতে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার-ফরোয়ার্ড ও আক্রমণের প্রধান অস্ত্রে পরিণত করেছিলেন।
তাঁর মতে, রাফিনিয়াও একই ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন। উইংয়ে খেললেও কিংবা আক্রমণের কেন্দ্রে থাকলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনার হাই-প্রেসিংয়েও নেতৃত্ব দেন এই ব্রাজিলিয়ান।
ফ্লিকের কৌশলগত সিদ্ধান্তে রাফিনিয়া এখন শুধু একজন উইঙ্গার নন; বরং বার্সেলোনার আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। গোল করার পাশাপাশি তাঁর গতি, পরিশ্রম ও প্রেসিং দক্ষতা দলটির আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
ফলে সময়ের সঙ্গে রাফিনিয়া যদি স্থায়ীভাবে সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তাহলে বার্সেলোনায় তাঁর ক্যারিয়ারে এটি হতে পারে বড় এক পরিবর্তন যেমনটি একসময় হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে।
মেহেদী হাসান মিরাজ
ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএলে) নিজের অভিষেক দারুণভাবে রাঙিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা আমাজন ওয়ারির্সের হয়ে বৃহস্পতিবার বল হাতে মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাটিংয়ে ভালো করতে না পারলেও বোলিং দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন মিরাজ।
এদিকে মিরাজের পাশাপাশি জ্বলে উঠেছেন দলটির অধিনায়ক ইমরান তাহির। ৪৭ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার তুলে নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। এই দুই স্পিনারের বোলিং ঘূর্ণিতে সেন্ট লুসিয়া কিংস ১১৯ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে ব্যাটিংটা ভালো হয়নি গায়ানার। তবুও জয় পেতে সমস্যা হয়নি তাদের।
কোয়েন্টিন স্যাম্পসনের ১১ বলে ৩৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ৪ উইকেটে ম্যাচ জেতে গায়ানা। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ইমরান তাহির। ৮ ম্যাচে এটি তাদের সপ্তম জয়। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের শীর্ষে।
মিরাজ দ্বিতীয়বার গেছেন সিপিএল খেলতে। এর আগে তাকে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স দলভুক্ত করেছিল। কিন্তু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এবার গায়ানা তাকে মোহাম্মদ নবীর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দলে নেয়। প্রথম সুযোগেই নিজের সামর্থ্যের জানান ভালোমতো দিয়েছেন।
বল হাতে নিজের প্রথম ওভারে জন ক্যাম্পেবেলের উইকেট নেন মিরাজ। এগিয়ে এসে অফস্পিনারের বল উড়াতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন ক্যাম্পবেল। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে মিরাজ ফেরান কেমল সেভরি ও চারিথ আসালাঙ্কাকে। এরপর আর কোনো উইকেট না পেলেও সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছিলেন মিরাজ। তার ৪ ওভার শেষ হয় ১৩ রান দিয়ে। উইকেট পেয়েছেন ৩টি। যেখানে ১৩ বল ছিল ডট।
এদিকে ইমরান তাহির ৪৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন। ১৭ রানে ৫ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত আসরে এটি তার ষষ্ঠ ফাইফার। টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ৫ উইকেট বা তার বেশি উইকেট নেয়ার তালিকায় ইমরান আছেন দুই নম্বরে। ৭ বার ৫ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন ডেভিড ভিসে।
গায়ানার বোলিং যতটা আলো ছড়িয়েছে, ব্যাটিং ততটাই হতাশ করেছে। ওপেনিংয়ে গ্লেন ফিলিপসের ৩৭ ও শেষ দিকে স্যাম্পসনের ১ চার ও ৫ ছক্কায় সাজানো ৩৭ ইনিংসে গানায়া শুরুরু ধাক্কা সামলে অনায়েস জয় তুলে নেয়। মিরাজ পাঁচে নেমে ৪ বলে ১ রান করেন। স্পিনের চেজের বল সুইপ করে স্কয়ার লেগে আসালাঙ্কার হাতে ক্যাচ দেন।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মিরাজদের পরবর্তী ম্যাচ ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে।