শামা ওবায়েদ, নায়াব ইউসুফ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ এএম

আশি ও নব্বইর দশক এবং একবিংশ শতকের শুরুতেও দেশে বিএনপির রাজনীতিতে দুই কিংবদন্তি, একজন কে এম ওবায়দুর রহমান, অপরজন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। সময়ের পরিক্রমায় তাদের প্রয়াণের পর সেই শূন্যস্থানে নাম লেখালেন তাদের উত্তরসূরি দুই কন্যা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তারা বিজয়ী হয়েছেন।


তাদের মধ্যে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগীয়) পদে রয়েছেন। এ ছাড়া ফরিদপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। দুজনেই প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।


শামা ওবায়েদ ইসলাম


তাঁর বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান দক্ষিণবঙ্গের সিংহপুরুষ হিসেবে খ্যাত ছিলেন। ১৯৪০ সালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের খন্দকার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবন থেকেই। এক পর্যায়ে সত্তরের দশকের শেষের দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নেই সক্রিয় হয়ে উঠেন। 


তিনি দলটি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং একবার বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। জনগণ আমাকে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাই।


নায়াব ইউসুফ আহমেদ


নায়াব ইউসুফ ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের বাসিন্দা। তাঁর বাবা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুরে বিএনপির ভিত্তি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। 


নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘আমার কাজের মধ্যে দিয়ে ফরিদপুর সদরকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যাব। দলমত নির্বিশেষে এই ফরিদপুরবাসীর জন্য আমি কাজ করে যাব। সবাই মিলে বৈষম্যহীন চাঁদাবাজ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত উন্নয়নের ফরিদপুর গড়ে তুলব। ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নায়াব ইউসুফ আহমেদ। 

বিষয় : ভোট




চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিন ও তরুণী লিজার সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২০ পিএম

প্রেমের টানে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় ছুটে এসেছেন ওয়্যাং সুলিন (৩০) নামের এক চীনা যুবক। শুধু আসাই নয়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছেন নাজমিন আক্তার লিজা (২০) নামের এক তরুণীকে।


মুসলিম হওয়ার পর এই চীনা যুবকের নাম রাখা হয়েছে মো. নুর উদ্দিন।


পারিবারিক সূত্র জানায়, লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন পেশায় একজন আসবাব ব্যবসায়ী। তাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।


এদিকে ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। ভাইয়ের সঙ্গে মিলে নিজ দেশে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি।


জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে লিজা ও সুলিনের প্রথম পরিচয়। যোগাযোগের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।


বিষয়টি দুই পরিবারের কাছে জানালে উভয় পক্ষই এতে সম্মতি দেয়। এর পরই প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান সুলিন। সেখান থেকে লিজার স্বজনরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ২১ জুলাই স্থানীয় আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করে ধর্মান্তর ও বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ করতে আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জে জমকালো বিয়ের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে কনেপক্ষ।


তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি পাত্রদের ক্ষেত্রে প্রতারণার নানা খবর আসায় কনের পরিবার ছিল বেশ সতর্ক। লিজার বাবা নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আমরা চীনা দূতাবাসে গিয়েও যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করেছি। সব কিছু সঠিক পাওয়ার পর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করে নিশ্চিত হয়ে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই। এমপি সাহেবের সঙ্গে নবদম্পতি দেখাও করেছে। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি চীনে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা প্রস্তুত করে লিজাকে নিয়ে যাবেন।’


এদিকে চীনা যুবকের সঙ্গে বাংলাদেশি মেয়ের বিয়েকে ঘিরে মোহনগঞ্জজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় উৎসুক মানুষ প্রতিনিয়ত লিজাদের বাড়িতে ভিড় করছে নতুন জামাইকে একনজর দেখতে এবং ছবি তুলতে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ এ আদেশ জারি করেন।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. মঈনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়।


আদেশে বলা হয়, বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।


তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।


তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর এনসিপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। এর প্রেক্ষিতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল ১০টার পর হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্ব পালন করে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ পিএম

সিলেটের ছয় উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 


এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।


জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার সকালে জানান, এখনো বিজিবি মোতায়েন করা হয়নি। বৃহস্পতি ও শুক্রবার ছয়টি উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে।


৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।


জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সিলেটের ছয় উপজেলায় পদযাত্রা ও সমাবেশ করবে এনসিপি। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলায় কর্মসূচি বিকেল ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় কর্মসূচি থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিজিবি মোতায়েনের আবেদন করে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কোন উপজেলায় কখন বিজিবি মোতায়েন হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করতে পারেননি।


সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার পর সিলেটের কর্মসূচি ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ওসমানীনগরে পদযাত্রা শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ, বিকেল ৫টায় গোয়াইনঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় জৈন্তাপুরে পদযাত্রা ও সমাবেশ করবে দলটি।


 


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র সেন সিলেটে জুলাই সংঘর্ষে পুলিশে দাওয়ায় পানিতে ডুবে মারা যাওযার  হত্যা মামলায় তদন্তে ২ বছরেও তেমন অগ্রগতি নেই, বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে অনেকে। 


২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশের হামলার সময় সুরমা আবাসিক এলাকার লেকে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যান দিনাজপুর সদর উপজেলার সুবীর সেন ও শিখা বণিক দম্পতির পুত্র রুদ্র সেন। সে ই ১৮ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের প্রথম নিহত শাবি শিক্ষার্থী। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে ডুবে যায় একটি পরিবারের সকল স্বপ্ন। 


সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের শাহাদাতকে কেন্দ্র করে উত্তাল ছিল দেশ। এমন সময়ে শাবি ক্যাম্পাস ও এর পাশ্ববর্তী এলাকার সকল কর্মসুচীতে রুদ্র সেন ছিলেন সক্রিয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হওয়ায় সে প্রশাসনের টার্গেটে পরিনত হয়েছিল। ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ অস্ত্র, অবৈধ বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্র-জনতার উপর নির্বিচারে গুলীবর্ষণ ও হামলা চালায়। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ ও শারীরিক ভাবে গুরুতর আহত হন। হামলার একপর্যায়ে পুলিশের  ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খাল ভেলায় চড়ে পাড় হওয়ার চেষ্টার করেন। সে সময় ভেলাটি উল্টে গিয়ে তিনি পানিতে পড়ে যান। সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মারা যান। 


পরবর্তীতে তার মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সামসুল ইসলাম পানিতে ডুবে রুদ্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন তার মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে পাঠানো হয়। 


তদন্তের বৃত্তে বন্দী বিচার প্রক্রিয়াঃ ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের ফলে বদলে যায় প্রেক্ষাপট। এমন পরিস্থিতিতে রুদ্র সেন নিহতের ঘটনায় ঐ বছরের ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তৎকালিন সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীরসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়। 


এছাড়া মামলায় পুলিশের ৫ জন কনস্টেবল ও দুজন উপপরিদর্শককে (এসআই) আসামি করা হয়েছে। মামলার এজহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন- মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, একই থানার ওসি (তদন্ত) আবু খালেদ মো. মামুন, সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, শাবিপ্রবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, মৌলভীবাজারের সাবেক সাংসদ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ রনজিৎ সরকার, সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমান প্রমুখ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- রুদ্র সেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 


২০২৪ এর ১৮ জুলাই কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। সেদিন শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশে সুরমা আবাসিক এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ সন্ত্রাসীরা সরকারি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বন্দুক, রাইফেল, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শান্তিপ্রিয় ছাত্র-জনতাকে আক্রমণ করে। এতে অনেকে শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হন। অস্ত্রধারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিও ছোড়ে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার একপর্যায়ে আসামিদের ধাওয়া খেয়ে আহত অবস্থায় রুদ্র সেন সুরমা আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ী এতিম স্কুলের রাস্তার সংযোগস্থলে একটি খালে পড়ে যান। তাঁর সাঁতার না জানার বিষয়টি জেনেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে রুদ্র সেনকে খালে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। 


মামলাটি আদালতের নির্দেশে প্রথমে তদন্তে নামে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরপর মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। গেল বছরের মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত পলাতক আসামিদের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা না পাওয়া এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য সময় বেশি লাগছে।


এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোখলেছুর রহমান  জানান, প্রিয় শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা হতাশ। ২ বছরেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই। মূল আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলার শুরুর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখলেও গত ১ বছর থেকে কেউ কোন যোগাযোগ করছেন না। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে আমরা রীতিমত হতাশ। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী হাফিজুল ইসলাম জানান, মামলার অগ্রগতি হতাশা ব্যাঞ্জক। 


সিআইডির সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন-সিআইডিতে মামলা নাকি পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উপাত্ত যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তাই চার্জশীট দিতে দেরি করা হচ্ছে। সিআইডি বলছে তারা নাকি ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। অথচ তাদেরকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলার কোন আসামীকে সরাসরি গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিহতের পরিবার ও আমরা সহপাঠিদের মাঝে শঙ্কা বাড়ছে। 


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মো. এমরান হোসেন জানান, রুদ্র সেন হত্যা মামলাটির অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলাটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে তাই একটু সময় লাগছে। এজাহারে বেশির ভাগ রাজনৈতিক আসামি দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে। দেশের ভেতর যারা রয়েছে তার যাতে পালাতে না পারে সে জন্য ইমিগ্রেশনেও নির্দেশনা দেয়া আছে। এখন পর্যন্ত এজাহার নামীয় ৪ জনসহ মোট ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৪ জনই শাবি শিক্ষার্থী। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। চার্জশীট কবে দেয়া হতে পারে সে ব্যাপারে কিছু বলা যাবেনা বলেও মন্তব্য করেন এই সিআইডি কর্মকর্তা।


আজো চোখের জলে পুত্রকে স্মরণ করে বুকফাটা আর্তনাদ করেন বাবা সুবীর সেন ও মা শিখা বণিক। তারা বলেন,আবার ফিরেছে জুলাই। কিন্তু ফিরেনি রুদ্র সেন। আর ফিরবেনা কোনদিন। একমাত্র বোন সুস্মিতা সেন আজ পর্যন্ত এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারেননি প্রিয় ছোট ভাইকে।তারাও তাদের স্বজন হারানোর ব্যাথায় ব্যথিত। তারাও সুবিচার দাবি করেন।


শাবির মেধাবী শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার কোন অগ্রগ্রতি নেই। তদন্তের বৃত্তে বন্দী হয়ে আছে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া। মামলার তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়ার ধীর গতিতে হতাশ তার পরিবার, শিক্ষক ও সহযোদ্ধারা।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ এএম

মোঘল আমলে নির্মিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঐতিহাসিক চাঁদ খোসাল মসজিদের দানবাক্স ও অন্যান্য সামগ্রী মিলে ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৯ টাকা পাওয়া গেছে। 


বুধবার (২৯ জুলাই) বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়।


 এসময় দান বাক্সে নগদ ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৯ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া গত ৬ মাসে হাঁস, মুরগি, কবুতর, ছাগল, গরু, সোনাসহ বিভিন্ন দানসামগ্রী বিক্রি করে আরও ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৯ টাকা জমা করা হয়।


এ বিষয়ে চাঁদ খোসাল মসজিদের ক্যাশিয়ার মজনুর রহমান  বলেন, সভাপতির উপস্থিতিতে মুসল্লিদের সহযোগিতায় দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চাঁদ খোসাল মসজিদের সভাপতি আরিফুর রহমান  বলেন, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মসজিদের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় কাজে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।


রাস্তায় বসে পড়লেন এনসিপির নেতারা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৬ পিএম

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আবার বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। 


বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁদের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।


সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে। অবরোধের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হয়। এনসিপির নেতারা বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। ‘বাহ্‌ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। আড়াআড়ি দাঁড় করানো বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য।




গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ হবিগঞ্জসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন।


এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। 


ওই গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে হবিগঞ্জ পৌর শহরে বেলা ৩টায় সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। 


এরপরও হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন এনসিপির নেতারা।


কামাইছড়া এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিটে প্রেস ব্রিফিং করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গতকাল হবিগঞ্জে হামলায় এনসিপির ৩০ জনের মতো নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে প্রতিবাদ–মিছিল করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু বার বার পুলিশ বাধা দিচ্ছে। 


শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বলা হয়, গতকালের ঘটনায় মামলা করার জন্য এবং আহতদের দেখার জন্য হবিগঞ্জে এনসিপির মাত্র পাঁচজন নেতা যাবেন। তাও যেতে দেওয়া হয়নি।