সাভার মডেল থানা

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

ঢাকার সাভারে র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে মারধর করে ২৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে দুই দিনেও আসামি গ্রেফতার বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।


সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনগত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী রেজাউল করিম অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে হেমায়েতপুর এলাকার আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাজে ২৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন আর কে এন্টারপ্রাইজের কর্মচারী ইসরাফিল হক। পরে টাকার ব্যাগ নিয়ে তিনি হেমায়েতপুরে সাভারমুখী সড়কের এক পাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারে থাকা অজ্ঞাত চার ব্যক্তি তার পথরোধ করে।


অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের র‍্যাব সদস্য পরিচয় দেন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইসরাফিল হককে দিনদুপুরে মারধর করে আহত করার পর তার কাছে থাকা ২৬ লাখ টাকার ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।


ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রেজাউল করিম অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।




  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় টাঙ্গন নদীর উপর নবনির্মিত চেরকুরঘাট ব্রিজ সাম্প্রতিক সময়ে  স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ।


জানা যায় যে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি ) কর্তৃক নির্মিত এই নান্দনিক সেতুটি দেখতে প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। 


নান্দনিক ডিজাইন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ব্রিজের মূল আকর্ষণ। টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত এই ব্রিজের আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও এর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে "ভাইরাল ব্রিজ" হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 


পরবর্তীতে পর্যটন স্পট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিকেল হলেই স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন, যা এটিকে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে। 


স্থানীয় ব্যক্তি মনসুর আলী, রফিকুল ইসলাম আব্দুল হামিদ সহ অনেক‌ই জানান, এই ব্রীজটি হ‌ওয়ায় আমাদের দুই পাড়ের পাশাপাশি আশেপাশে কয়েক গ্রামের মানুষের অনেক সুবিধা হয়েছে। পূর্বে আমাদের বর্ষা মৌসুমে ৫-৭ কিলোমিটার দূরে গিয়ে  যাতায়াত করতে হতো। আমাদের কৃষিকাজে, হাটবাজারে পণ্য পরিবহন, হাসপাতাল সহ ও স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে আমাদের খুব অসুবিধা হতো। এখন ব্রীজ হওয়ায় মনে হয় যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ব্রীজটি নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর কারণে বিনোদনের পাশাপাশি চেরকুরঘাট সংলগ্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। যেহেতু এই ব্রিজের মাধ্যমে। ব্রীজটি নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে করা হয়েছে। যা দেখার জন্য দূর দূরান্তের মানুষেরা প্রতিদিন ছুটে আসছে।


ব্রীজটি এলজিইডির অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সুনিপুণভাবে কাজটি সুসম্পন্ন হয়েছে এর আগে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতুটির নির্মাণকাজ ও এর চারপাশের উন্নয়ন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এটি পীরগঞ্জের অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন ও আলোচিত স্থান হিসেবে হাজারো মানুষের নজর কেড়ে চলেছে।


এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন সৌরভ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাস্তা, ব্রীজ কালভার্ট এর কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।


নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মামুন বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের জীবন মান উন্নয়নে এলজিইডি জেলায় সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের  গ্রামের রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে চলেছে। এতে করে গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরামদায়ক ও দুর্ঘটনামুক্ত হচ্ছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রামের পাকা রাস্তা ব্যবহার করে মানুষকে অতি দ্রুত আইনি সেবা দিতে পারছে।  কৃষকরা ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য কম খরচে ও সহজে নিকটস্থ বাজারে বাজারজাত করতে সক্ষম হচ্ছে।

কক্সবাজারে ১০ম আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬

কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার আহ্বান


১০ম আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ পিএম

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দু’দিনব্যাপী ১০ম আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬। ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি’ (CASH) বাংলাদেশ-এর আয়োজনে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে সিম্পোজিয়ামের শুভ উদ্বোধন করা হয়।




সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও লন্ডন থেকে আগত চিকিৎসক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, গবেষণা, আধুনিক প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।


সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কক্সবাজারের গ্রীন রিভল্যুশন সোসাইটি বাংলাদেশ-এর সভাপতি ডাঃ এম এ মনজুরের ব্যতিক্রমধর্মী ও শিক্ষামূলক প্রেজেন্টেশন- 

“বৃক্ষের ক্ষত থেকে সবুজ বিপ্লব: কৃষিতে হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনা”।




গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সময় ডাঃ এম এ মনজুর উদ্ভিদের পরিচর্যা, প্রুনিং ও গ্রাফটিং-পরবর্তী ক্ষত ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিতে হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।


তিনি বলেন, “পানি যেমন জীবনের জন্য অপরিহার্য, তেমনি হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনাকেও মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।”


তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর উপায় খুঁজে বের করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতি কিংবা অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।


উদ্ভিদ ও প্রাণিসম্পদে হোমিওপ্যাথির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কৃষিবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বৃহৎ পরিসরে যৌথ গবেষণা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ডাঃ মনজুর।


তিনি বলেন, “সবুজ বিপ্লব শুধু গাছ লাগানোর আন্দোলন নয়; নিরাপদ খাদ্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার বিকাশও সবুজ বিপ্লবের অংশ।”


একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি এবং এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।


সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের চিকিৎসক ও গবেষকরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


দেশী-বিদেশী একডজনের বেশী চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী তাদের নানা অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশবান্ধব হোমিওপ্যাথি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগ

সাংবাদিকের প্রশ্নে অভিযোগকারীকে ‘মেরে লাশ বানানোর’ হুমকি


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান (আলম)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক,জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক মো. মোখলেছার রহমান।


অভিযোগে মোখলেছার রহমান দাবি করেন, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাইদুর রহমান (আলম) বিভিন্ন অজুহাতে দলিলপ্রতি চাঁদা দাবি করে আসছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর দলিলপ্রতি ২০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গত জানুয়ারি মাসে তার কাছে দলিলপ্রতি ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অপমান ও গালাগাল করা হয় বলে দাবি তার।


এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি আলমের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা মন্তব্য নিতে তার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অভিযোগকারী মো. মোখলেছার রহমানকে ‘মেরে লাশ বানিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


অভিযোগকারী বলেন, চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন তিনি।


অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান (আলম)-এর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে প্রাণনাশের হুমকির অডিও কল রেকর্ড সংগৃহীত আছে।


বরইবাগানে মোসলেম উদ্দিন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

একসময় অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতেন মোসলেম উদ্দিন। যে টাকা পেতেন, তা দিয়ে সংসার চলত না। পরে এই কাজ ছেড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আচার ও বাদাম বিক্রি শুরু করেন। তাতেও আয় তেমন হতো না। পরে জমি ইজারা নিয়ে লেবু ও মাল্টার চাষ করেন। এখন টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রায় ৫০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন টক বরইয়ের বাগান।  আগাম জাতের টক বরই জীবন পাল্টে দিয়েছে মোসলেমের। এ মৌসুমে নিজের বাগান থেকে কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লাভ হবে তাঁর।


দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে পারেননি মোসলেম। মানুষের বাড়িতে থেকে গরু-বাছুর চরিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ে করার পর সংসারের সচ্ছলতা আনতে ফেরি করে আচার ও বাদাম বিক্রির শুরু করেন। কখনো বাড়ি বাড়ি, কখনো কোনো বিদ্যালয়ের সামনে, আবার কখনো বাজারে আচার-বাদাম বিক্রি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোরকমে তাঁর সংসার চলত।


২০১০ সালের দিকে ১২ বছরের জন্য ছয় একর জমি ইজারা নিয়ে প্রথমবারের মতো লেবুর চাষ শুরু করেন মোসলেম। এতে দ্রুতই তাঁর সাফল্য আসে।


লেবু থেকে টক বরই


লেবুর বাগান করে সাফল্য পাওয়ার পর নতুন করে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন মোসলেম। তাঁর মনে হলো, যে বরই দিয়ে মানুষের পছন্দের আচার তৈরি হয়, সেই বরই তিনি চাষ করবেন। বিশেষ করে টক বরইয়ের আচার নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়—বিষয়টি তাঁর ভাবনায় বেশি ছিল।


প্রথমে সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে ১০ একর জমিতে আগাম জাতের টক বরই চাষ শুরু করেন মোসলেম। পরে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানী গ্রামের সাতটি স্থানে আরও প্রায় ৪০ একর জমি ইজারা নিয়ে বরই চাষ করেন। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এখন তাঁর বরইয়ের বাগান। গত আগস্টের শুরু থেকে তাঁর বাগানের আগাম জাতের টক বরই বিক্রি হচ্ছে।

বাগান থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বস্তা বরই পাঠানো হচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তে। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৬০ কেজি বরই থাকে। প্রতি কেজি আগাম টক বরই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন ৭২ হাজার থেকে ৯৬ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।


৫ সেপ্টেম্বর মোসলেমের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বড়ই। গাছের নিচে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন।


মোসলেম বলেন, যখন মৌসুম পুরোদমে চলে (নভেম্বর-ডিসেম্বর), তখন প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি হয়। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কম হলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। এ মৌসুমে অন্তত এক কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন।


মোসলেম বলেন, গত মৌসুমে পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। বরইগাছে ফুল আসার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফলন কমে যায়। গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করলেও জমির ইজারা, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তাঁর লাভ ছিল মাত্র ছয়-সাত লাখ টাকা। তবে তাঁর আশা, এবার এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হলে তাঁর অন্তত ৩০ লাখ টাকা লাভ থাকবে।


১৫ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান


বরইয়ের বাগান শুধু মোসলেমের ভাগ্যই বদলায়নি, কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। তাঁর বাগানে সারা বছর স্থায়ীভাবে কাজ করেন প্রায় ১৫ জন শ্রমিক। বরই পাড়ার মৌসুমে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেন।


বাগানের বরইয়ের বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান। প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য এসব প্রতিষ্ঠান বড় পরিমাণে টক বরই কিনে থাকে। ফলে উৎপাদিত বরই বিক্রি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না বলে জানান তিনি।

ছনের ঘর থেকে তিনতলা ভবন


সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের ধুমখালী এলাকায় নিজের কেনা প্রায় এক একর জমিতে এখন মোসলেমের তিনতলা বাড়ি। যে মানুষটি একসময় সর্বোচ্চ টিনের ঘর করার স্বপ্ন দেখতেন, তিনি এখন অট্টালিকায় থাকেন।


মোসলেম বলেন, দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। ছোটবেলায় মানুষের বাড়িতে রাখাল থেকেছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ের পর বাড়ি বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরি করে আচার-বাদাম বিক্রি করেন। তখন বাড়িতে দোচালা ছনের ঘর ছিল। স্বপ্ন দেখতেন, একদিন দোচালা টিনের ঘর হবে। এখন তিনি তিনতলা বাড়ির মালিক। কৃষির আয় দিয়েই তিনি এ বাড়ি করেছেন।


মোসলেমের এক মেয়ে। তাঁকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) শেষ করে মালয়েশিয়ার লিঙ্কন ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে এবার সখীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।


বরই চাষে অন্যদেরও আগ্রহ


মোসলেমের বরইয়ের বাগান দেখে সখীপুরের অনেক কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যে নতুন করে বরইয়ের বাগানও করেছেন। তিনি বলেন, বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফল হতে পারেন। এ দেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এ পেশায় অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।

মোসলেমের মতে, লাভজনক ফলের বাগান করতে হলে জাত নির্বাচন, পরিচর্যা ও বাজারজাত—এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয়। আগাম জাতের বরইয়ের ক্ষেত্রে বাজারে ফল আসার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।


সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন প্রথম আলোকে বলেন, আগাম জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


প্রায় ৫০ একর জমির বাগানে ঝুলে থাকা টক বরইগুলো তাই শুধু ফল নয়; মোসলেমের কাছে এগুলো তাঁর বদলে যাওয়া জীবনের প্রতিচ্ছবি।



  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৫ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিল (ফেন্সিডিলের বিকল্প)সহ মোঃ আলতাফুর রহমান (২৫) নামে এক মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় উদ্ধার করা ফেন্সিবিলের সিজার মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।


রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাগরভিটা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় সিভিল সোর্স ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরভিটা বিওপির হাবিলদার মোঃ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।


অভিযান পরিচালনার সময় নাগরভিটা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ৩৭৭ থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেলতলা নামক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক চোরাকারবারি মোঃ আলতাফুর রহমানকে আটক করে বিজিবি।


আটক আলতাফুর রহমান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেলতলা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। তার কাছ থেকে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা।


বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান বন্ধে বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিয়মিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর অধিনায়ক।


বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এ সময় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২০ পিএম

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং পঞ্চগড় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন পঞ্চগড়ে আগমন উপলক্ষে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার  মুহাম্মদ নওশা জমির , এ সময় উপস্থিত ছিলেন  জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


মন্ত্রী পঞ্চগড়ে পৌঁছালে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে পঞ্চগড়ে স্বাগত জানান এবং তাঁর দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।