ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ এএম

দেশে প্রতিবছর গমের চাহিদা যেখানে ৮০ থেকে ৮২ লাখ টন, সেখানে স্থানীয় উৎপাদন সীমাবদ্ধ থাকে মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টনে। 


ফলে ঘাটতি পূরণে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন গম, যার জন্য ব্যয় হয় ২৩ হাজার কোটি থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই নির্ভরতা কমাতে আশার আলো দেখাচ্ছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন পাঁচটি গমের জাত।


সম্প্রতি উদ্ভাবিত এই পাঁচটি জাত হলো– বিডব্লিউএমআরআই-১, বিডব্লিউএমআরআই-২, বিডব্লিউএমআরআই-৩, বিডব্লিউএমআরআই-৪ এবং বিডব্লিউএমআরআই-৫। এসব জাত দ্বিগুণ ফলন দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি, তাপ-লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু। এ ছাড়া ব্লাস্টসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী এবং জিংক সমৃদ্ধ হওয়ায় পুষ্টিগুণেও এগিয়ে। চরাঞ্চল, পাহাড় ও পতিত জমিতেও আবাদ করা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব জাত ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হলে দেশে গম উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।


প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সারাদেশের পাঁচ হাজার ৩০০ কৃষকের মধ্যে এসব নতুন জাতের গমের বীজ প্রদর্শনী ও প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে হেক্টরপ্রতি সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করছে।


সদর উপজেলার রামডুবি এলাকার কৃষক দবিরুল ইসলাম জানান, আগে গমের ফলন কম হওয়ায় আবাদ কমিয়ে দিয়েছিলেন। তবে নতুন জাত চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। ‘স্বল্প সময়ে, কম খরচে ভালো ফলন হয়েছে,’ বলেন তিনি। 


একই উপজেলার মাইন উদ্দিন জানান, আগে যেখানে প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে আট মণ গম হতো, এখন নতুন জাত ব্যবহার করে ২৫ থেকে ২৮ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে। এতে অন্যান্য কৃষকও গম আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।


নশিপুর এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গমের চাহিদা বাড়ছে। নতুন জাতের বীজ পেয়ে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। সব কৃষক যদি এই বীজ পায়, তাহলে সবাই উপকৃত হবে।’ 


আরেক কৃষক সঞ্চয় কুমার জানান, মাত্র তিনবার সেচ দিয়েই এক বিঘা জমিতে উল্লেখযোগ্য ফলন পেয়েছেন। ‘নিজের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করতে পারব,’ বলেন তিনি। 


কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার কৃষক শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফলন কম হওয়ায় গমের আবাদ কমে গিয়েছিল। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো থেকে বেশি ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।


বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, ‘নতুন জাতগুলো উচ্চফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধী। গড় ফলন যেখানে ৩.৮৬ টন, সেখানে নতুন জাতগুলোতে পাঁচ থেকে ছয় টন পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে।’ তিনি জানান, এসব জাত কম পানি ও সার ব্যবহারেও ভালো ফলন দেয় এবং পরিবেশবান্ধব। তাই এসব জাত দ্রুত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের গম উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবেন, অন্যদিকে কমবে আমদানি নির্ভরতা এবং সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।

বিষয় : কৃষি



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও শ্রী উদা রায় (৩৪) নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে খবর পাওয়া গেছে। 


গতকাল শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। 


নিহত আসাদল হক পীরগঞ্জের বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের উদ্দীনের ছেলে। আহতদের বাড়িও একই এলাকায়। মোস্তাকিম সেখানকার আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা মুনষা নারায়ণের ছেলে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সীমান্ত পিলার এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল গুলি চালায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।


স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত ও আহতরা বৈরচুনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আমরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। আহত দু’জনের অবস্থাও ভালো নেই। 


এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিস্তারিত তথ্য জানতে ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আজ পতাকা বৈঠক হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

পঞ্চগড়ের দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারি ভাবে পঞ্চগড়ে সোলার প্রজেক্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও পঞ্চগড় চিনিকল পরিদর্শন শেষে এমন মন্তব্য করেন পানি সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এসময় তার সাথে  চায়না, সিঙ্গাপুর ও দুবাই সহ বিভিন্ন দেশের ব্যাবসায়ি প্রতিনিধি এবং দেশীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।




প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে সরকারি সোলার পাওয়ার প্লান্টের উদ্বোধন সহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন করবেন। সরকারের আশা, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন দেবীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন ও এই এলাকাকে সবুজায়ন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের জন্য সোলার প্রজেক্ট অত্যন্ত উপযোগী। খুব দ্রুত এই সোলার প্রজেক্টগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের বিদ্যুতের চাহিদা দূর করার পাশাপাশি স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এসময় তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করা হয়েছে। যার কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না এবং এর জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলবে। 


বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে এলাকার বেকারত্ব কমার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।


চায়না প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, জমি প্রাকৃতিকভাবে ভালো এবং বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। তারা নিজ দেশে ফিরে বোর্ড সভায় বিষয়টি আলোচনা করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে জানান।


এসময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব মাহাবুব হোসেন, জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভীন, চায়না প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় টাঙ্গন নদীর উপর নবনির্মিত চেরকুরঘাট ব্রিজ সাম্প্রতিক সময়ে  স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ।


জানা যায় যে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি ) কর্তৃক নির্মিত এই নান্দনিক সেতুটি দেখতে প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। 


নান্দনিক ডিজাইন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ব্রিজের মূল আকর্ষণ। টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত এই ব্রিজের আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও এর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে "ভাইরাল ব্রিজ" হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 


পরবর্তীতে পর্যটন স্পট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিকেল হলেই স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন, যা এটিকে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে। 


স্থানীয় ব্যক্তি মনসুর আলী, রফিকুল ইসলাম আব্দুল হামিদ সহ অনেক‌ই জানান, এই ব্রীজটি হ‌ওয়ায় আমাদের দুই পাড়ের পাশাপাশি আশেপাশে কয়েক গ্রামের মানুষের অনেক সুবিধা হয়েছে। পূর্বে আমাদের বর্ষা মৌসুমে ৫-৭ কিলোমিটার দূরে গিয়ে  যাতায়াত করতে হতো। আমাদের কৃষিকাজে, হাটবাজারে পণ্য পরিবহন, হাসপাতাল সহ ও স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে আমাদের খুব অসুবিধা হতো। এখন ব্রীজ হওয়ায় মনে হয় যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ব্রীজটি নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর কারণে বিনোদনের পাশাপাশি চেরকুরঘাট সংলগ্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। যেহেতু এই ব্রিজের মাধ্যমে। ব্রীজটি নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে করা হয়েছে। যা দেখার জন্য দূর দূরান্তের মানুষেরা প্রতিদিন ছুটে আসছে।


ব্রীজটি এলজিইডির অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সুনিপুণভাবে কাজটি সুসম্পন্ন হয়েছে এর আগে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতুটির নির্মাণকাজ ও এর চারপাশের উন্নয়ন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এটি পীরগঞ্জের অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন ও আলোচিত স্থান হিসেবে হাজারো মানুষের নজর কেড়ে চলেছে।


এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন সৌরভ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাস্তা, ব্রীজ কালভার্ট এর কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।


নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মামুন বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের জীবন মান উন্নয়নে এলজিইডি জেলায় সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের  গ্রামের রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে চলেছে। এতে করে গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরামদায়ক ও দুর্ঘটনামুক্ত হচ্ছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রামের পাকা রাস্তা ব্যবহার করে মানুষকে অতি দ্রুত আইনি সেবা দিতে পারছে।  কৃষকরা ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য কম খরচে ও সহজে নিকটস্থ বাজারে বাজারজাত করতে সক্ষম হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

কক্সবাজারে ১০ম আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬

কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার আহ্বান


১০ম আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ পিএম

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দু’দিনব্যাপী ১০ম আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬। ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি’ (CASH) বাংলাদেশ-এর আয়োজনে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে সিম্পোজিয়ামের শুভ উদ্বোধন করা হয়।




সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও লন্ডন থেকে আগত চিকিৎসক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, গবেষণা, আধুনিক প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।


সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কক্সবাজারের গ্রীন রিভল্যুশন সোসাইটি বাংলাদেশ-এর সভাপতি ডাঃ এম এ মনজুরের ব্যতিক্রমধর্মী ও শিক্ষামূলক প্রেজেন্টেশন- 

“বৃক্ষের ক্ষত থেকে সবুজ বিপ্লব: কৃষিতে হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনা”।




গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সময় ডাঃ এম এ মনজুর উদ্ভিদের পরিচর্যা, প্রুনিং ও গ্রাফটিং-পরবর্তী ক্ষত ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিতে হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।


তিনি বলেন, “পানি যেমন জীবনের জন্য অপরিহার্য, তেমনি হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনাকেও মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ-বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।”


তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর উপায় খুঁজে বের করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতি কিংবা অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।


উদ্ভিদ ও প্রাণিসম্পদে হোমিওপ্যাথির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কৃষিবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বৃহৎ পরিসরে যৌথ গবেষণা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ডাঃ মনজুর।


তিনি বলেন, “সবুজ বিপ্লব শুধু গাছ লাগানোর আন্দোলন নয়; নিরাপদ খাদ্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার বিকাশও সবুজ বিপ্লবের অংশ।”


একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি এবং এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।


সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের চিকিৎসক ও গবেষকরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


দেশী-বিদেশী একডজনের বেশী চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী তাদের নানা অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশবান্ধব হোমিওপ্যাথি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

সর্বশেষ সব খবর

সাভার মডেল থানা

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

ঢাকার সাভারে র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে মারধর করে ২৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে দুই দিনেও আসামি গ্রেফতার বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।


সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনগত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী রেজাউল করিম অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে হেমায়েতপুর এলাকার আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাজে ২৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন আর কে এন্টারপ্রাইজের কর্মচারী ইসরাফিল হক। পরে টাকার ব্যাগ নিয়ে তিনি হেমায়েতপুরে সাভারমুখী সড়কের এক পাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারে থাকা অজ্ঞাত চার ব্যক্তি তার পথরোধ করে।


অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের র‍্যাব সদস্য পরিচয় দেন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইসরাফিল হককে দিনদুপুরে মারধর করে আহত করার পর তার কাছে থাকা ২৬ লাখ টাকার ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।


ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রেজাউল করিম অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগ

সাংবাদিকের প্রশ্নে অভিযোগকারীকে ‘মেরে লাশ বানানোর’ হুমকি


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান (আলম)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক,জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক মো. মোখলেছার রহমান।


অভিযোগে মোখলেছার রহমান দাবি করেন, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাইদুর রহমান (আলম) বিভিন্ন অজুহাতে দলিলপ্রতি চাঁদা দাবি করে আসছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর দলিলপ্রতি ২০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গত জানুয়ারি মাসে তার কাছে দলিলপ্রতি ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অপমান ও গালাগাল করা হয় বলে দাবি তার।


এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি আলমের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা মন্তব্য নিতে তার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অভিযোগকারী মো. মোখলেছার রহমানকে ‘মেরে লাশ বানিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


অভিযোগকারী বলেন, চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন তিনি।


অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান (আলম)-এর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে প্রাণনাশের হুমকির অডিও কল রেকর্ড সংগৃহীত আছে।

সর্বশেষ সব খবর