নিজের দপ্তরে চেয়ারে বসে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৪ এএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’


সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। এ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরাও।


গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।






উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ না করলে ভবনের ফটকে তালা এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তারা উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এই প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত তিনি উপাচার্য ভবনে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা রয়েছেন। সেখানে সিভিল পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে।  


এর আগে সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পৌনে ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন।


পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।


দুই তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল আর খাবার নিয়ে উপাচার্য ভবনে ঢুকতে গেলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তৈরি হয় উত্তেজনা।  এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার। পরক্ষণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 


নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি। বর্তমানে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছি। তাঁরা আসলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবো, তাদের সাথে কথা বলব।’ 


সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, সকাল থেকে তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।’ 


ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই প্রবেশ করেছি।’


ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্বয় বলেন, ‘সরকার যেহেতু স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি।’

চুয়েটে উপাচার্য ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘যাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি, তার কাজ নিয়ে তো শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। স্যারকে কাজের সুযোগ দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।’


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’


উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা চলছে। এর মধ্যেই নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। 


২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।



বিষয় :


চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে গণঅনশন

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪২ পিএম

এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল ও শ্রমিক কর্মচারীদের চাকরির নিশ্চয়তাসহ মৌলিক দাবি পূরণের লক্ষ্যে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। দাবি পূরণ না হলে এখান থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই  গণঅনশন শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। 


অনশন চলার সময় ‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেব না’, ‘গো ব্যাক গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড ডিপি ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।


চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘গোপন এই চুক্তি বাতিল করতে অনেকদিন ধরেই আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু আমাদের দাবি না মেনে জোর করে চুক্তি করেছে সরকার। এটি বাতিল করতে হবে।’ 


আরেক আন্দোলনকারী নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘গণঅনশনে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবে। কাজ বন্ধ রেখে বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরাও অংশ নিচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি পালন করবো। দাবি পূরণ না হলে এখান থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’


আন্দোলনকারীরা জানান, ৮ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই তারা বিক্ষোভ মিছিল করে সরকারকে আলোচনার জন‍্য দুই দিনের সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গণঅনশন করছি।


৮ অক্টোবর আগারগাঁওয়ের ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তি সই হয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এইচ ই ইসা কারিম এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান চুক্তিতে সই করেন। 


এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬ মাসের মধ্যে এনসিটি পুরোপুরি বুঝে নিয়ে অপারেশনাল কাজ শুরু করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে বাইক শোডাউন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদলের নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর দিকনির্দেশনায় এবং রূপগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সারফারাজ মিয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে বাইক শোডাউন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের প্রতিবাদ জানান।


আয়োজকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে যুবদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করেন। বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।


পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা হইতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একইসঙ্গে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সকল পর্যটকদের আগামীকাল ১২ অক্টোবর (সোমবার) বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে এ জরুরী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাজেকভ্যালি পুনরায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।


উল্লেখ, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এর ডাকে রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ পালিত হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার পর্যটকগামী গাড়ি উজবাজার এলাকায় আটকে পড়ে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে পর্যটকরা সাজেক ও খাগড়াছড়ি ফিরে যান।


খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙন

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের একটি অংশ। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। বছরের শুরুতে ভাঙনের ভয়াবহ দেখে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 


আজ রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বটবুনিয়া এলাকার অংশটি বিলীন হয়ে যায়।


বাঁধে আরো ধ্বস ও ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছেন মানুষ। বারবার সংস্কারেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানিতে ভেসে যায় সবকিছু। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।’


দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।


অনেকের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। অথচ কর্মকর্তারা দায়সারা ভাবে কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটে নিয়ে যায় তাছাড়া দীর্ঘদিন সরকারি জায়গা বিক্রির অভিযোগ থাকলে কোন সমাধান হয়না এখানে।


এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘পাউবোর সাথে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষক সমাবেশে ফরহাদ মজহার

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

কৃষকদের উদ্দেশে কবি, প্রাবন্ধিক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভিত্তিতে চাষাবাদ করতে হবে। আল্লাহ্কে যদি না মানেন, যদি কোম্পানিকে মেনে চাষাবাদ করেন তাহলে ইমান হারাবেন।’ পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় আজ রোববার দুপুরে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে আগামী দিনের বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সরকার পরিচালিত হচ্ছে কোম্পানির ইশারায়। রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা না গেলে কৃষি ব্যবস্থাপনা এগুবে না।’ 


ফরহাদ মজহার বলেন, ‘কৃষিতে আধুনিকায়নের নামে বীজ কোম্পানির আগ্রাসন কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যারা ভোট চায় তারা কৃষির কথা ভাবে না, কোম্পানির হাতে জিম্মি তারা। কোম্পানির দেওয়া সার ও বিষ ব্যবহার করার মানে জীব হত্যা করা। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সরকারও ফতুর হয়ে যাবে। বাঁচতে চাইলে রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দেশি জাত রক্ষা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’


সার-কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে: ফরিদা আখতার


ঈশ্বরদী উবিনীগ ও নয়া কৃষি আন্দোলনের উদ্যোগে আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাড়লপাড়া গ্রামে কৃষক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষির নামে গ্রামে সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হার্টব্লকসহ জটিল রোগ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রাণিসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষকে সুস্থ্য থাকতে হলে সার কীটনাশক ব্যবহার বন্ধের সাথে সাথে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।


উবিনীগ ঈশ্বরদী আঞ্চরিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আজমিরা খাতুনের সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস শিমু, উবিনীগ ঈশ্বরদী শাখার গবেষক গোলাম মোস্তফা রনি, আটঘরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হোসাইন, চাটমোহর উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার আসলাম হোসাইন, কৃষক আকলিমা খাতুন, মুজদার আলী, রেজিয়া খাতুন, আবুল হোসেন, ফরিদা খাতুন, সানোয়ারা খাতুন, হাফিজুর রহমান, মরিয়ম বেগম, জান্নাতুল খাতুন, রীনা খাতুন প্রমুখ।


কৃষক সমাবেশে কয়েকশ’ কৃষক ও নারী কৃষকরা অংশ নেন। রাসায়নিক সার ও কীনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফসল আবাদ করে সফল কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বাজারে অন্যান্য কৃষি পণ্যের চেয়ে আমার উৎপাদন করা সার-বিষমুক্ত নির্ভেজাল শাকসবজি স্থানীয় হাট-বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। এতে আমি নিজে যেমন লাভবান হই তেমনি ভোক্তারা সার-বিষমুক্ত শাক সবজি খাওয়ার সুযোগ পান।


কৃষকের মেয়ে জান্নাতুল খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনই কৃষক। তারা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে জমিতে সার-বিষ প্রয়োগ ছাড়াই ফসল উৎপাদন করেন। একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে আমি এতে গর্ব অনুভব করি। পাশাপাশি ভেজালমুক্ত খাবার খেয়ে সুস্থ্য থাকার সুযোগ পাই।’