মারুফ হোসেন
গাজীপুরের টঙ্গীতে মা-দক কারবারি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছে মারুফ হোসেন (৩০)নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক। তিনি দৈনিক ইনকিলাবের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল নয়টার দিকে টঙ্গীর এরশাদ নগর বেরিবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মারুফ হোসেন তথ্য সংগ্রহের জন্য বেরিবাঁধ এলাকায় যান। এ সময় আগে থেকে ওতপেতে থাকা চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী মোঃ সোহান(৩০), মোঃ সেলিম(৫৫) ও হাসান(২৫)সহ তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা ধারালো অ'স্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কু'পিয়ে গুরুতর জখম করে। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এবিষয় টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং সন্ত্রাসীদেরকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
দেশের বিমানবহরে ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ দেখতে চান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসতে শুরু করবে। ২০৩৬-৩৭ সাল পর্যন্ত সেগুলো বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নগরের সারিন্দা সবারি রিসোর্টে আয়োজিত ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনা করেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন দেশের আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি। একটা সময় আমরা থাকব না। আমাদের এই শিক্ষার্থীরা, যারা বিদেশে গিয়ে নিজেদের মুখ খুলে বলতে পারবে, আমাদেরও বিমান বহর রয়েছে।’
তাঁর মতে, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কানাডা, নিউইয়র্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটন খাতেরও বিকাশ ঘটবে।
ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান। তাঁরা ময়মনসিংহের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিমানবন্দর নির্মিত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে- এমন প্রত্যাশা তাঁদের দাবিতে উঠে আসে।
ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দরে আর বেশি দিন চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় বড় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজন। ত্রিশালে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণে সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি বিমানবন্দর নির্মাণ ছোটখাটো অবকাঠামো তৈরির মতো নয়। এ জন্য পরিকল্পনা ও সময়-দুটিই প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে শিশুপার্ক স্থাপন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি তোলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
শিশুপার্ক স্থাপনের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেষ্টা করা হবে। আগামী বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় পার্কটি দৃশ্যমান করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলবেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। এ ছাড়া নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী হতে হবে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ অন্যরা। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
সংবর্ধনা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। টেন মিনিট স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়।
নাটোরের লালপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারা মোতাবেক এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকারের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবির হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুর ইউনিয়নের সার ডিলার ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক ওয়াহিদুল ইসলাম খোকন ঈশ্বরদী ইউনিয়নের সাবডিলার বাবুর কাছে ২০ বস্তা সার বিক্রি করেন। সারগুলো পরিবহনের সময় স্থানীয় লোকজন গাড়িটি আটকে পুলিশকে খবর দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং ওই ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সার বিক্রির অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শুক্কুর আলী
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন নতুন বাজার এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শুক্কুর আলীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। গ্রেপ্তার শুক্কুর আলী টঙ্গী পূর্ব থানার পূর্ব আরিচপুর নতুন বাজার রেলগেট এলাকার বাসিন্দা হান্নান মিয়ার ছেলে। গত ২২ আগস্ট ঘোষিত টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটিতে তিনি স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পদ পান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্কুর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদুল আলম বলেন, শুক্কুর আলী টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দুই শিশুর পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে
মাথায় সাদা টুপি, পরনে পাঞ্জাবি। ছয় থেকে সাত বছর বয়সী ছোট্ট শিশুটির পা শিকল দিয়ে বাঁধা। মেঝেতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে কান্না করছে সে। তার মতো একই অবস্থা আরেক শিশুর। পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থাতেই পবিত্র কোরআন পড়ছে সে। গতকাল শনিবার রাত থেকেই শিশুদের নির্যাতনের এমন দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছবি দুটি লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তোলা। গত বছর একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
অবশ্য শুধু এ দুটি ছবি নয়। একই প্রতিষ্ঠানের এমন নির্যাতনের আরও কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিও প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশুশিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দিচ্ছেন মাদ্রাসার একজন শিক্ষক। একপর্যায়ে ওই শিশুর মাথায়ও আঘাত করেন তিনি। পরে স্টিলের স্কেল দিয়ে আঘাত করা হয় ওই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে। অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে মাথায় উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় দিতে দেখা গেছে। আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে মারধর করতে দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়ই অমানবিক আচরণ করা হয়। তবে শিশুরা বাড়িতে ফিরে এসব ঘটনা অভিভাবকদের জানাত না। ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিডিওগুলো প্রায় এক মাস আগের।
ভিডিওতে মোট দুজন শিক্ষককে শিশুদের মারধর করতে দেখা গেছে। তাঁদের একজন হাবিব উল্লাহ । তিনি মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক পদে রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি পৌরসভা শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় জড়িত আরেক শিক্ষকের নাম জানা যায়নি।
শিশুদের নির্যাতের বিষয়টি স্বীকার করেন শিক্ষক হাবিব উল্লাহ । তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আসলে ভুল হয়ে গেছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন থেকেও আমাদের সতর্ক করা হয়েছে। এটি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। অভিভাবকেরা বলেছেন, ভবিষ্যতে এমনটি যেন আর না হয়। ওই শিক্ষার্থীরা এখন মাদ্রাসায় রয়েছে।’
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, ঘটনাটি চরম নিষ্ঠুর। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা হাবিব উল্লাহ এ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিভাবকদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা কেউ মামলা করতে রাজি হননি। মামলা ছাড়া এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশুদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষালাভের কথা, সেখানে তাদের ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
মহাদেবপুরের জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ
প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর অবশেষে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে অনার্স পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় খোলার অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত ৪ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে। এতে অন্যান্য কলেজের সঙ্গে জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে অনার্স পর্যায়ে ইংরেজি, গণিত, অর্থনীতি, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা ও ব্যবস্থাপনা বিষয় খোলার লক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
জাতীয় সংসদের নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুলের এ সংক্রান্ত গত ৯ জুন তারিখের আধাসরকারি পত্রের (ডিও) পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমতি দেয়া হয় বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই অনুমতি অনার্স কোর্স খোলার একদম প্রাথমিক পদক্ষেপ। জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ ইতোমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত হওয়ায় অন্যান্য প্রক্রিয়া সহজ হবে। মন্ত্রণালয়ের এই অনুমতির পর এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয় কোড বরাদ্দ ও আসন সংখ্যা অনুমোদনের প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ পরিদর্শক সরেজমিনে পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করে রিপোর্ট দিবেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এই রিপোর্ট উত্থাপন করা হবে। বিষয়টি সেখানে নিস্পত্তি হলে ওইসব বিষয়ে অনার্স পর্যায়ে পাঠদানের চুড়ান্ত অনুমতি দেয়া হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের পুরাতন ভবন, একাডেমিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, বায়োলজি, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স ভবন, লাইব্রেরী, অডিটোরিয়াম, আর্টস বিল্ডিং ছাড়াও একটি ছয়তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অনার্সের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খোলার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লাস রুম, লাইব্রেরী, ল্যাব ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। তবে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। কলেজটিতে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যাণিজ্য বিভাগে মোট এক হাজার ১০০ জন এবং স্নাতক পর্যায়ে বিএ ও বিএসএস বিভাগে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব বিষয়ে পাঠদানের জন্য ২৪ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। এছাড়া ১৩ জন কর্মচারির পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন। অনার্স কোর্স চালু হলে বিষয়ভিত্তিক অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
জানতে চাইলে, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. লোকনুজ্জামান আহম্মেদ বলেন, ওই নয়টি বিষয় ছাড়াও বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং দর্শনসহ মোট ১৩টি বিষয় খোলার প্রক্রিয়া চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২০২৭-‘২৮ শিক্ষাবছরে অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তি বিজ্ঞপ্তির সাথে এই কলেজের নামও অন্তর্ভূক্ত হবে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে। সেবছর ৩১ জুলাই ‘জাহাঙ্গীরপুর কলেজ’ নামে এর নামফলক উন্মোচন করেন রাজশাহীর তদানিন্তন জেলা প্রশাসক এম. এ. সাঈদ। এর মূল উদ্যোক্তা নওগাঁর তদানিন্তন মহকুমা প্রশাসক আজিজুল হক। এটি প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেন জমিদার ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় চৌধুরী।
১৯৮৩ সালের শেষদিকে তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মহাদেবপুর কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দানকালে কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হলো বলে ঘোষণা দেন। পরের বছর ৯ জানুয়ারি থেকে এটি ‘জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তখন পর্যন্ত এখানে শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ছিল।
১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কলেজটিকে এর অধিভূক্ত করা হলে স্নাতক (পাশ) পর্যায় চালু হয়। এরপর বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়েছে একইভাবে। জেলার অন্য সব উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) পর্যায় চালু হলেও মহাদেবপুরে তা চালুর উদ্যোগ নেননি কেউ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নওগাঁ সদরে নওগাঁ সরকারি কলেজ ও নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজে ১৯৯৬ সালে, নওগাঁ আস্তান মোল্লা কলেজে ২০১৩ সালে, পত্নীতলা উপজেলায় নজিপুর সরকারি কলেজে ২০১০ সালে, সাপাহার উপজেলায় সাপাহার সরকারি কলেজে ২০১১ সালে, বদলগাছী উপজেলায় বদলগাছী সরকারি কলেজে এবং আত্রাই উপজেলায় মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজে ২০১২ সালে, মান্দা উপজেলায় মান্দা মোমিন-শাহানা সরকারি কলেজে ২০১৩ সালে, পোরশা উপজেলায় পোরশা ডিগ্রি কলেজে ২০১৫ সালে এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় নিয়ামতপুর সরকারি কলেজে ২০১৬ সালে অনার্স পর্যায় চালু হয়। এই অবস্থায় নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল ডিও লেটার দিয়ে মহাদেবপুরে অনার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ নেয়ায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভালবাসা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন মহল তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই উদ্যোগে তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ
ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারতকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় কাঠের সেতু-সংলগ্ন এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, ভারত গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে চুক্তিটি নবায়ন করবে এবং অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রমাণ দিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সমর্থন নিয়ে বিতর্ক ছিল। তাঁর মতে, গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করা হলে সেই বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
এ সময় পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মীরগড় কাঠের সেতু এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দ প্রকাশ করেন। এ উপলক্ষে তাঁরা প্রতিমন্ত্রীকে মিষ্টিমুখ করান। সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
পরে প্রতিমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন।